মানিকগঞ্জে সাত বছরের সাজা এড়াতে পালিয়ে ছিলেন এক যুগ
অর্থ আত্মসাতের মামলায় সাত বছরের সাজা হয় আতোয়ার রহমান (৬০) নামের এক ব্যক্তির। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি পেশা পরিবর্তন এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়াতেন। এভাবে এক যুগ পালিয়ে ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত গতকাল রোববার রাতে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা এলাকায় র্যাবের হাতে ধরা পড়েন তিনি।
আজ সোমবার আতোয়ারের গ্রেপ্তারের বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন র্যাব–৪–এর সিপিসি-৩ মানিকগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার মোহাম্মদ আরিফ হোসেন।
গ্রেপ্তার আতোয়ার রহমানের বাড়ি জেলা সদর উপজেলার মত্ত এলাকায়। তিনি একটি ব্যাংকের অফিস সহকারী পদে চাকরি করতেন।
র্যাব বলছে, কৃষি ব্যাংকের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী শাখায় পিয়ন হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় আতোয়ার রহমান বিভিন্ন গ্রাহকদের সঞ্চয়ের টাকা আত্মসাৎ করেন। ২০০৩ সালে ওই ব্যাংকের ব্যবস্থাপক বাদী হয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ঘিওর থানায় মামলা করেন। এর পর গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি ঢাকায় পালিয়ে যান। পরবর্তী সময় মামলার তদন্ত শেষে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১০ সালের ২৩ মার্চ আদালতের বিচারক আতোয়ার রহমানকে সাত বছরের কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
র্যাবের কর্মকর্তা লে. কমান্ডার মোহাম্মদ আরিফ হোসেন বলেন, দীর্ঘ ১২ বছর ধরে আসামি আতোয়ার পলাতক ছিলেন। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় নিজের পরিচয় গোপন করার জন্য ক্রমাগত তিনি পেশা পরিবর্তন করেছেন। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় আতোয়ার রিকশা চালাতেন এবং রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। পরে চায়ের দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। আজ দুপুরে গ্রেপ্তার আসামিকে ঘিওর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুর রহমান বলেন, সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।