আটোয়ারী উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের প্রধানপাড়া এলাকার বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম (৬২) বলেন, বোদা থেকে আটোয়ারী পর্যন্ত সড়কটিতে খানাখন্দের কারণে চলাচল করা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক সড়কের পিচ তুলে নতুন করে পিচ ঢালাইয়ের জন্য খোয়া ফেলে রাখা হয়েছে। এক বছর ধরে এভাবে রাস্তাটা পড়ে আছে, কোনো কাজ হচ্ছে না। কী কারণে কাজ বন্ধ, তাঁরা কিছুই বুঝতে পারছেন না।

এলজিইডি পঞ্চগড় কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এলজিইডির রুরাল কানেকটিভিটি ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় পঞ্চগড়ের বোদা-আটোয়ারী সড়কের সাতখামার আর এন এইচ এলাকা থেকে ফকিরগঞ্জ হাট জিসি এলাকা পর্যন্ত ১৭ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয় ২০২০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি। ২০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বরাদ্দের কাজটি যৌথভাবে পায় এম এইচ করপোরেশন এবং এম এ ইঞ্জিনিয়ারিং নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চুক্তি অনুযায়ী, কাজটি ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার কথা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট সময়ে কাজটি শেষ করতে না পারায় কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয় চলতি বছরের ১ জুন পর্যন্ত। বর্ধিত মেয়াদেও কাজটি শেষ করতে না পারায় নতুন করে কাজের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘ এই সময়ে এখন পর্যন্ত সড়ক সংস্কারকাজের ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি এলজিইডি কর্তৃপক্ষের।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, বোদা-আটোয়ারী সড়কটির বলরামপুর লীলারমেলা, রানীগঞ্জ বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষার পানি জমে থাকা কর্দমাক্ত সড়কে যানবাহনগুলোকে চলাচল করতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। মালিগাঁও রেলগেট থেকে গোয়ালদিঘী মোড় পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়কে পিচ ঢালাই না করে ফেলে রাখায় ভাঙা পাথরগুলো ওপরে উঠে গেছে। মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের ব্রেক চাপলে চাকা পিছলে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

রাধানগর এলাকার জয়দেব বর্মণ বলেন, ‘প্রতিদিনই আমাদের এই সড়কে চলাচল করতে হয়। দেড় থেকে দুই হাজার মানুষ প্রতিদিন এই সড়কে চলাচল করে। আমাদের কষ্টের শেষ নাই।’

পজির উদ্দিন নামের একজন অটোরিকশাচালক বলেন, খানাখন্দের কারণে এই সড়কে অনেক সময় রিকশা উল্টে যায়। ভাঙা পাথর সড়কে উঠে থাকায় চলাচল করা কঠিন।

মূলত বর্ষার কারণেই সড়কের কাজটি বন্ধ আছে বলে জানিয়েছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রতিনিধি ও বলরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন। তিনি

আরও বলেন, আগামী আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে আবারও কাজ শুরু করা হবে এবং আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই কাজটি শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এলজিইডির পঞ্চগড়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামছুজ্জামান বলেন, বর্ষার সময় কার্পেটিং করলে কাজের মান খারাপ হতে পারে, এ জন্যই কাজটি বন্ধ রাখা হয়েছে। কাজের বর্ধিত মেয়াদও শেষ হয়ে যাওয়ায় আবারও মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। নির্ধারিত মেয়াদে কাজ শেষ না হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সড়কে কালভার্ট নির্মাণের ক্ষেত্রে জমির মালিকদের সঙ্গে জটিলতা সৃষ্টি এবং গাছ কাটার ক্ষেত্রে দেরি হওয়ায় কাজটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট সময়ে করতে পারেনি। বর্ষা চলে গেলেই কাজটি দ্রুত সম্পন্ন হবে। এখন পর্যন্ত সড়ক সংস্কারকাজের ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন