বিএনপিকে ২০২৯ সালের পর ভাবতে হবে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা যায় কি না: মাহবুব উল আলম

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ
ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, ‘আপনাদের (বিএনপি) ২০২৯ সালের পর ভাবতে হবে, এই বাংলাদেশে কখনো রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা যায় কি না। যত দিন বিএনপির এই দুর্নীতিবাজ নেতা বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়া থাকবে, তত দিন এই বাংলাদেশের মানুষ বিএনপিকে কখনো রাষ্ট্রক্ষমতায় আনবে না।’

আজ রোববার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত উপজেলার সরকারি হাজী আব্দুল জলিল উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া এতিমের টাকা আত্মসাতের কারণে দুর্নীতির মামলায় কারাগারে ছিলেন। শেখ হাসিনার বদান্যতায় তিনি কারাগার থেকে এখন বাসায় আছেন। কিন্তু তিনি (বেগম খালেদা জিয়া) তো নির্বাচনে অযোগ্য। নির্বাচন করার সুযোগ নেই। আরেক নেতা তারেক রহমান সন্ত্রাস, দুর্নীতি, এমন কোনো অপকর্ম নেই যা তিনি করেননি। আদালত কর্তৃক দণ্ডিত হয়ে তিনি বিদেশে পলাতক। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশের মানুষ বিএনপিকে ভোট দেবে না। ১৯৭১ সালেই ফয়সালা হয়ে গেছে, এই বাংলাদেশ চলবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে।

খুলনায় বিএনপির গণসমাবেশ কর্মসূচি নিয়ে মাহবুব উল আলম বলেন, ‘গতকাল (শনিবার) খুলনাতে বিএনপির বিভাগীয় মহাসমাবেশ ছিল। এই মহাসমাবেশে কত নাটক দেখলাম। মিডিয়া এটা নিয়ে ফলাও করে প্রচার করেছে। সেখানে বাসমালিকেরা ধর্মঘট করেছে। বিএনপিকে দেখে বাসমালিকেরা ভয় পেয়েছে। কারণ, এই বিএনপি ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে আন্দোলনের নামে পেট্রল দিয়ে গাড়ি-বাস পুড়িয়ে ধ্বংস করেছে। মানুষ হত্যা করেছিল।’

বর্তমান সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এ বক্তব্যের জবাবে মাহবুব উল আলম বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইতিহাস সৃষ্টি করেছে বিএনপি। জিয়াউর রহমান এ দেশে সবচেয়ে বড় মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন। ছোট্ট শিশু শেখ রাসেল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবার হত্যা করেছেন। আর মির্জা ফখরুল এখন মানবাধিকার ও বিচারব্যবস্থা নিয়ে কথা বলেন। এ দেশের বিচারব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছেন জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া।

মির্জা ফখরুল ইসলামের উদ্দেশে মাহবুব উল আলম হানিফ আরও বলেন, ‘আপনারা বলেছেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নাকি ১০টি আসনও পাবে না। আপনার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০৫-২০০৬ সালে অনেকবার জনসভায় বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে এলে ৩০টি আসনও পাবে না। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, ২০০৮ সালের নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়াকে ৩০টিরও কম আসন নিয়ে সংসদে যেতে হয়েছে।’

আশুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক আহ্বায়ক ছফিউল্লাহ মিয়ার সভাপতিত্বে সম্মেলন উদ্বোধন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মো. আবদুস সবুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল বারী চৌধুরী প্রমুখ।