আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেরিতে আসায় ক্ষোভ, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ছাত্র সংগঠন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক। আজ রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষেছবি: প্রথম আলো

ব্যাপক সংঘর্ষের পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও পাশের জোবরা-ফতেপুর গ্রামের বাসিন্দাদের নিয়ে সমন্বিত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আজ রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ছাত্রসংগঠন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলনকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন, দোষী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়। যথাসময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও শুরুতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাড়া পায়নি বলে অভিযোগ করে। সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হামলাকারী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন।

আরও পড়ুন

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার, সহ–উপাচার্য শামীম উদ্দিন খান, জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম, সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবিদ, চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম, র‍্যাব-৭–এর অধিনায়ক লে. কর্নেল হাফিজুর রহমান এবং বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট সদস্য ও সাবেক চাকসু ভিপি এস এম ফজলুল হক।

সভায় বলা হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে পর্যাপ্ত আসন না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী বাইরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন, যেখানে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়। এ জন্য একটি কমিটি গঠন করে শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে সমাধান খুঁজতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাতে হবে এবং দোষী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের পদক্ষেপ নিতে হবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার জন্য আনা হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আজ বেলা ৩টায় জরুরি বিভাগের সামনে
ছবি: সৌরভ দাশ

র‍্যাব-৭–এর অধিনায়ক লে. কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, উত্তেজিত হয়ে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে শান্তভাবে সমাধান খুঁজতে হবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রমাণ প্রয়োজন, তাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যেন মামলা করে এবং শিক্ষার্থীরা ছবি-তথ্য একত্র করে দেন। এতে দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা সহজ হবে এবং যাঁরা ওই এলাকায় থাকেন বা যাতায়াত করেন, তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে।

উপাচার্য মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার বলেন, ‘আমরা যা করছি, সবই শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিবের সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয়েছে, যা আমাকে আশ্বস্ত করেছে।’

আরও পড়ুন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের সংঘর্ষ হয়। আজ দুপুরে ক্যাম্পাসের দুই নম্বর গেট সংলগ্ন জোবরা গ্রামে
ছবি: জুয়েল শীল

গতকাল শনিবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টা থেকে আজ দুপুর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। গতকাল রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ভাড়া বাসার দারোয়ানের মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত।

দুই দফা সংঘর্ষে সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) মো. কামাল উদ্দিন, প্রক্টর তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ এবং অন্তত ১৮০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এ ঘটনায় তাঁদের পক্ষের আহত হয়েছেন ১০–১২ জন। সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থীদের প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখান থেকে গুরুতর আহত শিক্ষার্থীদের পাঠানো হয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আহত শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগ মাথা, হাত ও পায়ে আঘাত পেয়েছেন।

আরও পড়ুন