পুলিশ ও বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় পুলিশের গুলিতে বিএনপি নেতা নয়ন নিহত হওয়ার ঘটনা এবং শেরপুরের শ্রীবরদীতে তাঁতী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও ১৫ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে জেলা বিএনপি এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে। আজ বেলা তিনটার দিকে শহরের রঘুনাথবাজার এলাকার জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি হওয়ার কথা ছিল।

বেলা আড়াইটার দিকে জেলা বিএনপির সভাপতি মো. মাহমুদুল হকের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের গৃদানারায়ণপুর এলাকা থেকে বের হয়ে রঘুনাথ বাজার কালীবাড়ি মোড়ে এলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীরা বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ তাঁদের লাঠিপেটা করে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে শহরের রঘুনাথ বাজার, নিউমার্কেট, থানা মোড়, মুন্সিবাজার ও খরমপুর এলাকার দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের ২২টি শেল ও শটগানের ১০১টি গুলি ছোড়ে। সংঘর্ষে পুলিশের ছয় কর্মকর্তাসহ বিএনপির অর্ধশত নেতা-কর্মী আহত হন।

জেলা বিএনপির সভাপতি মো. মাহমুদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ বিনা উসকানিতে তাঁদের দলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং তাঁদের মারধর করেছে। একই সঙ্গে তাঁদের নির্ধারিত কর্মসূচি পণ্ড করে দিয়েছে। পুলিশের কর্মকাণ্ডের ঘটনায় তিনি তীব্র নিন্দা জানান।

জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. হান্নান মিয়া বলেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী বিক্ষোভ সমাবেশের নামে বিএনপি পরিকল্পিতভাবে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করেছিল। এর অংশ হিসেবে বিএনপির কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি অশান্ত করে তুলেছিলেন। ইটপাটকেলের আঘাতে পুলিশের ছয় সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১৬ জনকে আটক করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।