শাহজাহান শেখ বলেন, সকালে মাছ বাজারে গিয়ে রওশন মোল্লার আড়ত ঘরে বড় একটি বাগাড় দেখতে পান। এ সময় মাছটি ওজন দিয়ে দেখেন প্রায় ২৪ কেজি ৭০০ গ্রাম হয়েছে। পরে নিলামে তোলা হলে তিনিও অংশ নেন। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি দরে মোট ২৭ হাজার টাকায় তিনি কিনে নেন। পরে আবার তিনি মাছটি কেজি প্রতি ৫০ টাকা করে লাভে ২৮ হাজার ৭৫০ টাকায় মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট এলাকার আরেক মাছ ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেন।

বাগাড় একটি বিপন্ন প্রজাতির মাছ। এ ধরনের মাছ শিকার নিরুৎসাহিত করা হলেও গোয়ালন্দের পদ্মা নদীতে প্রায়ই জেলেদের জালে বাগাড় মাছ ধরা পড়ছে। প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে এই মাছ বিক্রিও হচ্ছে। তবে এ ধরনের মাছ শিকার বা বিক্রি বন্ধে বা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তফসিলে বাগাড় মাছকে বিপন্ন প্রাণী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। এদিকে বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্ত) আইন, ২০১২ অনুযায়ী বিপন্ন প্রাণী ধরা বা কেনাবেচা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) লাল তালিকায় রয়েছে বাগাড় মাছ।

মাছ ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান শেখ বলেন, ‘আমরা সারা বছর মাছবাজার বা ফেরিঘাটে জেলেদের নিয়ে আসা মাছ নিলাম করে কিনি। কখনো কোনোদিন মৎস্য বিভাগ, পুলিশ বা সরকারি কোনো দপ্তরকে অভিযান চালাতে বা নিষেধ করতে দেখেনি। আমরা ব্যবসায়ী। মাছবাজারে উঠলে কিনে অন্যত্র বিক্রি করে কিছু টাকা লাভ করে সংসার চালাই।’

জানতে চাইলে গোয়ালন্দ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা মো. রেজাউল শরীফ বলেন, পদ্মা নদীতে মাঝেমধ্যে বড় বড় মাছ ধরা পড়ে এটা শুধু জেলেদের নয়, এই অঞ্চলের জন্য অনেক সুখবর। তবে বাগাড় মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে কোনো পরিপত্র না থাকায় তেমন কিছু করতেও পারছি না। তবে জেনেছি এটা বিপন্ন প্রজাতির মাছ। শিগগিরই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জানতে চাইলে দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. সিরাজুল কবির বলেন, তিনি সদ্য যোগ দিয়েছেন। তবে বাগাড় বিপন্ন প্রজাতির মাছ, সেটা তিনি জানেন। তাই এ বিষয়ে শিগগিরই নদীতে অভিযান পরিচালনা করা হবে। যাঁরা বাগাড় মাছ শিকার করবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন