নিয়ামতপুর উপজেলার চন্দননগর গ্রামের কৃষক নূর আলম এ বছর ২০ বিঘা জমিতে আমন চাষ করতে চান। সে অনুপাতে আমনের বীজতলাও প্রস্তুত করেছেন তিনি। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে খেতে চারা রোপণের পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকেই বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু সেই সময় পার হতে চললেও বৃষ্টির দেখা নেই।

এদিকে বীজতলার চারাগাছগুলোর বয়স হয়ে যাওয়ায় লালচে হতে শুরু করে। সময়মতো রোপণ না করলে চারাগাছ নষ্ট ও উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে, এ আশঙ্কায় গভীর নলকূপ (ডিপ টিউবওয়েল) দিয়ে সেচের ব্যবস্থা করে চারা রোপণের জন্য জমি প্রস্তুত করেন তিনি। এতে বিঘাপ্রতি বাড়তি ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা খরচ করতে হয়েছে তাঁকে।

একই গ্রামের কৃষক সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘৩০-৩৫ দিন ধরে আমাদের এলাকায় একপশলা বৃষ্টিও হয়নি। মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে আছে। মাটি একেবারে শুকনা কাঠের মতো হয়ে আছে। এ জন্য সেচ দিয়ে মাটি ভেজাতে অনেক বেশি পানি লাগছে। এতে খরচ বেড়ে যাচ্ছে। বাড়তি খরচ করে ধান চাষ করে ন্যায্যমূল্য না পেলে তখন কৃষকের আরও মরণদশা হবে।’

মহাদেবপুর উপজেলার উত্তর গ্রামের কৃষক রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে বৃষ্টি নেই। আমরা কৃষকেরা এটা ভাবতেই পারছি না। এ রকম বৈরী আবহাওয়া আমি কোনো দিন দেখিনি।’

জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর নওগাঁয় ১ লাখ ৯৭ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আমনের বীজতলা প্রস্তুত করা হয়েছে ৩ হাজার ২৮৫ হেক্টর জমিতে। ইতিমধ্যে ৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে চারা রোপণ করা হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক এ কে এম মনজুরে মাওলা বলেন, আমনের চারা রোপণের জন্য এখনো প্রায় এক মাস সময় রয়েছে। পুরো শ্রাবণ মাসই চারা রোপণ করা যাবে। ভাদ্র মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চারা রোপণ করা যাবে। তবে যেসব কৃষকের বীজতলার চারার বয়স হয়ে যাচ্ছে, তাঁদের সুযোগ থাকলে সেচ দিয়ে চারা রোপণের জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

পাট নষ্ট হচ্ছে খেতে

প্রতিনিধি, ধুনট, বগুড়া জানান, এ বছর উপজেলার খাল-বিলে পাট পচানোর (জাগ) পানি না থাকায় কৃষকেরা জমি থেকে পাটগাছ কাটতে পারছে না। দাবদাহে অনেক কৃষকের পাট খেতে শুকিয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ধুনট উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের প্রায় ১৬ হাজার ২৪০ জন কৃষক ২ হাজার ১৭০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করেছেন। এর মধ্যে গত মাসে ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চর এলাকার ৩৮০ হেক্টর জমির পাট দ্রুত কেটে ফেলা হয়েছে।

বর্তমানে যমুনা নদীর পানি কমে গেছে। অন্যদিকে তিন সপ্তাহ ধরে নেই কোনো বৃষ্টিপাত। এতে কৃষক তাঁদের জমির পাট কেটে পানির অভাবে জাগ দিতে পারছেন না।

গতকাল রোববার সকালে চর ধুনট এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, ওই মাঠে পশ্চিম ভরনশাহী গ্রামের ইছাহাক আলী মণ্ডলের চার বিঘা জমিতে পাট চাষ হয়েছে। ওই জমি থেকে পাট কেটে মরিচের চাষ করা হবে। তাই চার দিন আগে পাটগুলো কেটে জমিতে রাখা হয়েছে। ইছাহাক আলী মণ্ডলের ছেলে আবদুর সাত্তার বলেন, পাট নিয়ে কী করবেন, বুঝতে পারছেন না। এভাবে পাট রাখলে নষ্ট হয়ে যাবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন