আজ সোমবার সকালে আজিজুরের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে উপস্থিত নিহতের স্বজনেরা বলেন, আজিজুর রহমান শহরের নিজনান্দুয়ালী গ্রামে একটি টিনের ঘর বানিয়ে ১২ বছরের ছেলেকে নিয়ে বসবাস করছিলেন। ছেলে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়ে। আর আজিজুর গৃহশিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। আজিজুরের স্ত্রীসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা গোয়ালবাথান গ্রামের বাড়িতে থাকেন।

আজিজুর রহমানের শ্যালক মো. ওয়াহিদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, শনিবার দুপুর পর্যন্ত মুঠোফোনে আজিজুরের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের কথা হয়েছে। তবে শনিবার সন্ধ্যা থেকে আজিজুরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সাড়া মেলেনি। প্রতিদিন রাতে তিনি মাদ্রাসা থেকে ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। তবে শনিবার রাতে তিনি ছেলেকে নিতে যাননি। এরপর গতকাল দিনভর মুঠোফোনে না পেয়ে পরিবারের লোকজন নিজনান্দুয়ালী বাড়িতে গিয়ে দেখেন, ঘরের একটি কোনায় আজিজুর অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। এরপর তাঁকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, আজিজুরের শরীরে বেশ কয়েক জায়গা পোড়া দাগ আছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ প্রথমে ধারণা করেছিল, শর্টসার্কিট বা গ্যাসের আগুনে পুড়ে আজিজুর মারা গেছেন। তবে কোথাও শর্টসার্কিট বা গ্যাসের আগুনে পোড়ার কোনো চিহ্ন নেই। তাঁদের ধারণা, আজিজুরকে কেউ হত্যা করেছেন।

জানতে চাইলে মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট বা গ্যাসের আগুনে পুড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। থানায় একটা অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।’