স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মাদারীপুর কার্যালয়ের সূত্র জানায়, নব্বইয়ের দশকে কালকিনি উপজেলা পরিষদ থেকে সাহেবরামপুর পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়। কালকিনি মাছবাজার থেকে বড় ব্রিজের গোড়া পর্যন্ত সড়কটির প্রায় ১৫০ মিটার সম্প্রসারণের জন্য ১৯৯৩ সালে দুই দফায় ৬৪ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক। বর্তমানে বিআরএস খতিয়ানে সড়কের পাশে থাকা ৬৪ শতাংশ জমি এলজিইডির নামে রয়েছে। সে হিসাবে সড়কটির পাশে ১১৯ নম্বর খতিয়ানে ১২ থেকে ১৬ নম্বর দাগ পর্যন্ত জমিটি এলজিইডির। এই দাগের জমির মধ্যেই নির্মাণ করা হচ্ছে ভবনটি।

মনিরুজ্জামান হাওলাদার বলেন, ‘আমি মাছবাজার কমিটির সভাপতি। বাজারের কল্যাণের জন্য টোলঘর করছি। কোনো অফিস বা দোকান হচ্ছে না। বাজার থেকে মাসে মাসে যে টাকা তোলা হয়, সেটা দিয়েই ভবন করা হচ্ছে। আমাদের নিজেদের কোনো জায়গা নেই। বিকল্প কোনো পথও নেই। তাই এলজিইডির জমিতে ভবন করা হচ্ছে।’

পৌরসভার মধ্যে টোলঘর নির্মাণের জন্য জমি ও ঘর দুটিরই ব্যবস্থা করে দেওয়ার দায়িত্ব পৌর কর্তৃপক্ষের। তা না করে এলজিইডির জমিতে এভাবে ভবন তোলার কারণ জানতে চাইলে মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ভবনটি আইনগতভাবে করতে পারি না। আপনাকে যেভাবে বলেছি, সেইভাবে কাজ করেছি। কেউ তো আর আমাদের বাধা দেয়নি। যদি বাধা দেয়, তাহলে ভবনের কাজ করব না।’

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, চর ঠেঙ্গামারা মাছবাজারের পাশেই প্রায় ৫ শতাংশ জমিতে নির্মাণাধীন ভবনটির একতলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শেষ। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, অধিগ্রহণ করা জমির মূল মালিক ছিলেন চর ঠেঙ্গামারা এলাকার মুক্তিযোদ্ধা আ. রহমান রাজা। অধিগ্রহণের পরও তাঁর অনেক খালি জমি পড়ে আছে ১১৯ নম্বর খতিয়ানে। অবৈধ ভবনটি যেখানে করা হচ্ছে, সেখানেও জমি রয়েছে তাঁর।

ওই ভবন নির্মাণের স্থানে তাঁরও জমি আছে বলে দাবি করেছেন আ. রহমান রাজা। তিনি বলেন, ‘দুই থেকে আড়াই বছর আগে এমপি গোলাপ আমার কাছে অফিস করার জন্য ওইখানে জমি চাইছিল। তহন আমি জমি দিতে রাজি হই নাই। এর পর থেকে নানা সময় বিভিন্ন লোক দিয়া এমপি সাহেব জমিটি চেয়ে আসছেন। পরে জোর করে তিনি লোক দিয়ে আমার জমিসহ এলজিইডির জমি দখলে নিয়া ভবন নির্মাণ করতাছেন। বিষয়টি আমি সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানাই। এরপরও কেউ উচ্ছেদের উদ্যোগ নিচ্ছে না।’

তবে ভবনটি নির্মাণের বিষয় কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন সংসদ সদস্য আবদুস সোবহান। তিনি মুঠোফোনে বলেন, ‘ওরা ওখানে টোলঘর করতাছে। এখানে আমার কী? আর আমরা নাম তো সবাই বলবে। আমি পারি ওদের বলে কাজটা বন্ধ রাখতে। আর ভবনটি নিয়ে যদি আমার নাম কেউ বলে থাকে, তাহলে তারা আমাকে প্যাঁচাচ্ছে।’

এলজিইডি মাদারীপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফ আলী খান বলেন, এলজিইডির নামে থাকা খালি জমিতে কোনো

স্থায়ী স্থাপনা করা যাবে না। যাঁরা কাজটি করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রকৌশলীকে বলা হয়েছে।

কালকিনির ইউএনও পিংকি সাহা বলেন, ‘ভবনটির বিষয়ে আমরা অবগত। কিন্তু বহুতল ভবনের জায়গাটি এলজিইডির নামে রেকর্ড। এলজিইডিও তাদের জমিটি বেদখলের ব্যাপারে অবগত। যেহেতু জমিটি এলজিইডির নামে রেকর্ড, তারা আমাদের কাছে উচ্ছেদের জন্য সহযোগিতা চাইবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এলজিইডি সহযোগিতা চেয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেনি। তারা আবেদন করলে আমরা উচ্ছেদ অভিযান চালাব।’