এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ময়লা-আবর্জনা ও বর্জ্য ধ্বংস করার জন্য পৌরসভায় কোনো ডাম্পিং ইয়ার্ড নেই। তাই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিক ও পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা এসব ময়লা-আবর্জনা কীর্তিনাশা নদীতে ফেলছেন। নড়িয়ার সাবেক লঞ্চঘাটের কাছে অন্তত ২০০ মিটার জায়গা জুড়ে নদীর তীরে ময়লার ভাগাড় বানানো হয়েছে। সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলার পর তা নদীর স্রোতে ভেসে যায়।

নড়িয়া বাজারের ব্যবসায়ী দিদার হোসেন বলেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শহর পরিচ্ছন্ন না রাখলে ক্রেতারা আসতে চান না। আর ময়লা-আবর্জনা ফেলার পৌরসভার কোনো স্থান নেই। তাই বাধ্য হয়ে নদীর তীরে ফেলতে হচ্ছে।

পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কাজ করে বিডিক্লিন নামে একটি সংগঠন। সংগঠনটির শরীয়তপুরের সমন্বয়ক মাসুদুর রহমান বলেন, শহর পরিচ্ছন্ন রাখা প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য। আর তা পৌর কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। শহর পরিচ্ছন্ন করা হয়। কিন্তু সেই ময়লা আবর্জনা নদীতে ফেলা হবে, এটা হতে পারে না।

মাসুদুর রহমান আরও বলেন, ‘আমরা নড়িয়ায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও প্রচারণা চালাব। সেখানকার বাসিন্দাদের বলব, নদীদূষণ করা যাবে না। চারদিক পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।’

নদী দখল ও দূষণ প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করে নদী পরিব্রাজক দল নামের একটি সংগঠন। ওই সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি নুরুজ্জামান শিপন বলেন, কোনোভাবেই নদীদূষণ ঠেকানো যাচ্ছে না। মানুষ বিভিন্ন কারণে অসচেতনভাবে নদীদূষণ করছে। একবার ভাবছে না, এর পরিণাম কী হতে পারে? তাঁদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছে নাগরিকদের সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানও। নড়িয়া পৌর কর্তৃপক্ষের অবহেলায় কীর্তিনাশা নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এর ফলে এক দিকে নদীর পানি দূষণ হচ্ছে। অন্যদিকে ভরাট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

এ বিষয়ে নড়িয়া পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদ বলেন, বর্তমানে পৌরসভায় কোনো ডাম্পিং ইয়ার্ড নেই। এ কারণে বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। কীর্তিনাশা নদীতে যাতে কোনো ময়লা-আবর্জনা ফেলা না হয়, সে জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে। ডাম্পিং ইয়ার্ড নির্মাণ করার জন্য এক একর জমি কেনা হয়েছে। সেটি নির্মাণ হলে আর এ সমস্যা থাকবে না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন