নারী ভোটারদের গুরুত্ব দিয়ে প্রচারে এনসিপি প্রার্থী নাবিলা তাসনিদ

ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনে এনসিপির প্রার্থী নাবিলা তাসনিদের প্রচারে গুরুত্ব পাচ্ছেন নারীরা। আজ সোমবার বেলা ১টার দিকে ধামরাই উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের গোমগ্রাম বাজারেছবি: প্রথম আলো

ঢাকার ধামরাইয়ে মোট ভোটারের অর্ধেকের বেশি নারী। এই নারী ভোটারদের ভোট নিজের পক্ষে নিশ্চিত করতে প্রতিটি পরিবারের কাছে যেতে চান বলে জানিয়েছেন ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি মনোনীত ও ১১–দলীয় জোটের প্রার্থী নাবিলা তাসনিদ।

আজ সোমবার ধামরাই উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের গোমগ্রাম বাজারে প্রচারে নেমে এ কথা জানান তিনি। শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া নাবিলা তাসনিদ বলেন, ‘সময়টা কম হওয়ায় প্রতিটি পরিবারের কাছে গিয়ে ভোট চাওয়ার কঠিন। এরপরও চেষ্টা করা হচ্ছে যতটুকু সম্ভব নারী ভোটারেদের কাছে পৌঁছানোর।’

নাবিলা তাসনিদ বলেন, মোট জনস্যংখ্যার একটি বড় অংশ নারীরা হলেও শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের দিক থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছেন তাঁরা। নির্বাচনে জয়ী হলে এ বিষয়ে জোরালোভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ঘরে বসে নারীরা যেন আয়ের পথ তৈরি করতে পারেন, সে লক্ষ্যে ফ্রিল্যান্সিং হাব গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। কৃষি ক্ষেত্রে উন্নত প্রযুক্তি যুক্ত করা, প্রতিটি ইউনিয়নে অ্যাগ্রো সাপোর্ট সেন্টার গড়ে তোলা হবে।

সোমবার নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতে বেলা ১১টার দিকে যাদবপুর ইউনিয়নের ধানতারা বাজারে যান নাবিলা তাসনিদ। সেখানে প্রতিটি দোকানে গিয়ে লিফলেট বিতরণসহ ১১–দলীয় জোটোর পক্ষে শাপলা কলি প্রতীকে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় তাঁর সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলার নায়েবে আমির মো. আবদুর রউফ, জামায়াতের যাদবপুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. আশরাফ উজ্জামান, জামায়াতের ধানতারা বাজার ইউনিয়নের সভাপতি মো. আবু বকর সিদ্দিকসহ, এনসিপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. ওফাজ উদ্দিন বলেন, ‘আপায় তো দাঁড়াইছে। আসছে ভোট চাইতেছে। আমাগোর যারা ভালো চাইব, তারেই আমরা ভোট দিমু।’

পরে ধানতারা বাজারের পাশে ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এমন কয়েকজন প্রবীণের সঙ্গে কথা বলেন নাবিলাসহ অন্যরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে এ সময় তাকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট চাওয়ায় পরামর্শ দেন। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় শাপলা কলির পক্ষে ভোট চাইতে সমর্থকদের পাঠানোর পরামর্শ দেন। বিভিন্ন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে দ্রুত পরামর্শ করে প্রচারণার কৌশল নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে জানান।

ধানতারা বাজারে প্রচারণা শেষে তাঁরা একই ইউনিয়নের গোমগ্রাম বাজারে প্রচারণা চালাতে যান। বাজারে বিভিন্ন দোকানদার ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে ভোট চান তাঁরা। এ ছাড়া নাবিলাকে বিভিন্ন সময়ে ভোটারদের নির্বাচনে ভোট এবং গণভোটে হ্যাঁ ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরতে দেখা যায়।

ঢাকা-২০ আসনে ১১–দলীয় ঐক্যের সমর্থন পাওয়ায় গণসংযোগে জামায়াত নেতাদের পাশে পাচ্ছেন নাবিলা তাসনিদ। সোমবার বেলা ১টার দিকে ধামরাই উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের গোমগ্রাম বাজারে
ছবি: প্রথম আলো

ওই বাজারে স্বামীর চা-বিস্কিট বিক্রির দোকানে বসে থাকা হাসনা বেগম বলেন, ‘আগে তারে (নাবিলা তাসনিদ) চিনতাম না। দুইবার এল ভোট চাইতে। জিতলে কেরা কী করব, তা তো জানি না।’

গোমগ্রাম বাজারে প্রচারণা শেষে নাবিলা তাসনিদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘সবাই পরিবর্তন চায়। জনগণ হাঁপিয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন স্বৈরাচারী শাসন, অনাচার, অবিচার, ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজি, পেশিশক্তি, অন্যায় অবিচার, অপশাসনের মধ্য দিয়ে অসুস্থ যে সমাজ তৈরি হয়েছে, জনগণ সেটির পরিবর্তন চায়। সুস্থ সমাজে সুস্থভাবে বাস করতে চায়। জনগণ ভালো এবং নতুন নেতৃত্ব দেখতে চায়। এই নেতৃত্ব তারা জুলাই-আগস্টের প্রতিনিধিত্ব থেকেই চায়। এসব কারণে ভোটারদের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সারা পাচ্ছি।’

বেলা আড়াইটার দিকে বাজারের পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা নাবিলা তাসনিদের ছবি–সংবলিত ‘শাপলা কলিতে ভোট দিন’ লেখা একটি পিক আপ থেকে গানের আওয়াজ ভেসে আসছিল। শোনা যাচ্ছিল, ‘ভিন্ন মত ভিন্ন পথ, থাকতেই পারে ভাই। দেশ বাঁচাতে এক কাতারে দাঁড়ানো আজ চাই। জনগণের দাবি এবার, সংস্কারেরই ডাক, স্বৈরাচারের কালো ছায়া নিপাত হয়ে ‍যাক। এক হও ভাই এক হও, ভুলে ভেদাভেদ হ্যাঁ ভোটেতে গড়বো মোরা ইস্পাতের এক জেদ...।’

১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত ঢাকা-২০ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৬৩৯ জন। এর মধ্যে নারী ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮০২ জন ও পুরুষ ১ লাখ ৮৭ হাজার ৮৩৫ জন। হিজড়া ভোটার রয়েছেন ২ জন। উপজেলার ১৪৭টি ভোটকেন্দ্রের ৭১০টি কক্ষে এবার ভোট গ্রহণ করা হবে।

আসনটিতে নাবিলা তাসনিদসহ ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্য প্রার্থীরা হলেন বিএনপির মো. তমিজ উদ্দিন, খেলাফত মজলিসের মো. আশরাফ আলী, জাতীয় পার্টির আহছান খান, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) হেলাল উদ্দিন আহাম্মদ এবং বাংলাদেশ জাসদের মো. আরজু মিয়া।