স্তন পরীক্ষা করানোর জন্য নাম লিপিবদ্ধ করছিলেন লবিজা বেগম। গ্রামে এমন সুযোগ পেয়ে খুশি তিনি। লবিজা বলেন, ‘আগে লজ্জায় পরীক্ষা করাতে যাইনি। কিন্তু এখন দেখছি, গ্রামের অনেকেই পরীক্ষা করাচ্ছে। তাই আমিও পরীক্ষা করাচ্ছি।’ দুই সন্তানের জননী নিলীমা বেগম বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই বুকে কেমন যেন ব্যথা অনুভব করছিলাম। ডাক্তারের কাছে যাব যাব করে আর যাওয়া হচ্ছিল না। তাই এখানে স্তন পরীক্ষা করিয়েছি।’

শান্তি ক্যানসার ফাউন্ডেশনের প্রচার সম্পাদক রেহনুমা খানমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন। ক্যানসার সচেতনতায় করণীয় নিয়ে বিশদ বক্তব্য দেন জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ও শান্তি ক্যানসার ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক পারভীন শাহিদা আখতার।

স্তন ক্যানসার হলে তা লুকানোর কিছু নেই জানিয়ে সুবর্ণা মুস্তাফা বলেন, প্রমাণিত হয়েছে, স্তন ক্যানসারে নারীরা যেমন ভুক্তভোগী হতে পারে, তেমনি পুরুষেরাও একইভাবে ভুক্তভোগী হতে পারে। সুতরাং এ অসুস্থতা নিয়ে লুকানোর কিছু নেই। পরিবারের অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে পরিবারের নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে। স্তন ক্যানসার বিষয়ে নিজে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

নির্দিষ্ট বয়সের পর সবাইকে প্রতি মাসে একবার করে স্তন পরীক্ষা করার আহ্বান জানান আফসানা মিমি। তিনি বলেন, ‘আমরা শারীরিক সমস্যা লুকিয়ে রাখতে চাই। আমাদের রোগটাকে জানতে হবে। লজ্জার কিছু নেই। স্তন ক্যানসারের বিষয়ে আমরা যত তাড়াতাড়ি জানব, তত সমস্যা সমাধানের সুযোগ থাকে। তাই লজ্জা ভেঙে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। ২০ বছর বয়সের পর থেকে প্রতি মাসে একবার করে স্তন পরীক্ষা করাতে হবে। নিজে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি অন্যকে সচেতন করতে হবে।’

ক্যানসার বিষয়ে সচেতনতার লক্ষ্যে ২০০৮ সাল থেকে শান্তি ক্যানসার ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু হয় বলে জানান চিকিৎসক পারভীন শাহিদা আখতার। তিনি বলেন, এ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে অচিরেই কাপাসিয়ার কাঁশেরা গ্রামে একটি ক্যানসার হাসপাতাল ও গবেষণাকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।

ক্যানসার নিয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সিমিন হোসেন বলেন, গ্রামের নারী-পুরুষের পান খাওয়ার প্রবণতা আছে। এতে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। পান খাওয়া সিগারেট খাওয়া থেকেও খারাপ। পান ও সিগারেট দুটিই ছাড়তে হবে। কাপাসিয়ায় ক্যানসার হাসপাতাল ও গবেষণাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হলে আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার মানুষও রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসাসুবিধা পাবেন।

অনুষ্ঠানে শান্তি ক্যানসার ফাউন্ডেশনের ক্যানসার হাসপাতাল ও গবেষণাকেন্দ্র নির্মাণে জমিদাতা পরিবারের সদস্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আবদুল আলীম, কাপাসিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান প্রধান, কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম গোলাম মোর্শেদ খান ও গাজীপুর জেলা সমাজসেবার উপপরিচালক এস এম আনোয়ারুল করিম প্রমুখ বক্তব্য দেন।
সবশেষ আয়োজনে ছিল শিশুদের অংশগ্রহণে ক্যানসার সচেতনতামূলক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। মেডিকেল স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের তত্ত্বাবধানে এ প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিতরণ করা হয়।