চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টি, এবার মিরসরাইয়ের ঝরনায় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা
টানা বৃষ্টিতে দুর্ঘটনা এড়াতে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের সব ঝরনায় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বন বিভাগ। আগামী শুক্রবার পর্যন্ত উপজেলার সব কটি ঝরনায় পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ থাকবে। গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বারৈয়ারঢালা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলমের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উপজেলার ঝরনাগুলোর ইজারাদারদের সব ধরনের পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানতে চাইলে মিরসরাইয়ের ঝরনাগুলোর ইজারাদার মেসার্স ‘থ্রি বি’র স্বত্বাধিকারী ওহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বন বিভাগের নির্দেশনার পর আমরা মিরসরাইয়ে আমাদের ইজারাভুক্ত সব কটি ঝরনায় সব ধরনের পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ রেখেছি। আমাদের কর্মীরা সার্বক্ষণিক বিষয়টি তদার করছে।’
চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগ বারৈয়ারঢালা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভারী বৃষ্টির এই সময়ে পাহাড়ি ঢলে ঝরনা এলাকার ঝিরিগুলোতে তীব্র স্রোত তৈরি হয়। দুর্যোগপূর্ণ এই সময়ে অনেক পর্যটক অতি উৎসাহী হয়ে অথবা না বুঝে বিপদে পড়েন। তাই আমরা ১০ জুলাই পর্যন্ত সব কটি ঝরনায় ভ্রমণ বন্ধ রাখার বিষয়ে ইজারাদারদের নির্দেশনা দিয়েছি।’
এর আগে ভারী বৃষ্টির কারণে বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র এবং রাঙামাটির সাজে পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বন বিভাগ জানায়, চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের আওতাধীন বারৈয়ারঢালা জাতীয় উদ্যানের প্রায় ২ হাজার ৯৩৫ একর বনাঞ্চলজুড়ে রয়েছে খৈয়াছড়া, নাপিত্তাছড়া, রূপসী, সোনাইছড়ি, ভাওয়াছড়াসহ বেশ কটি ঝরনা। আকৃতি ও সৌন্দর্যের কারণে খৈয়াছড়া, নাপিত্তাছড়া ও রূপসী ঝরনায় পর্যটকের ভিড় সবচেয়ে বেশি।
ঝরনাগুলোয় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ২০১০ সাল থেকে ইজারা দিয়ে আসছে বন বিভাগ। চলতি বছরের ২৩ মে থেকে আগামী বছরের ২৪ মে পর্যন্ত এক বছরের জন্য ৪০ লাখ ১০০ টাকায় ঝরনাগুলোর ইজারা পেয়েছে ‘থ্রি-বি’। ইজারার শর্ত অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের কাছ থেকে ২০ টাকা ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছ থেকে ১০ টাকা প্রবেশমূল্য নেওয়া হয়।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সারা বছরই পর্যটকেরা এসব ঝরনায় এলেও বর্ষাকালে পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় ভিড় কয়েক গুণ বাড়ে। সরকারি ছুটি ও উৎসবের দিনগুলোয় শুধু খৈয়াছড়া ঝরনাতেই দিনে দুই হাজারের বেশি পর্যটক আসেন।
ঝরনাগুলোয় পৌঁছাতে হলে পাথুরে ঝিরিপথ ও পাহাড়ি পথ অতিক্রম করতে হয়। এ কারণে এখানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। অনভিজ্ঞতা, অসতর্কতা, ঝরনার চূড়ায় উঠে সেলফি তোলার প্রবণতায় ভ্রমণের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। যেকোনো দুর্ঘটনায় উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসে মিরসরাই ফায়ার সার্ভিস। সংস্থাটির তথ্যানুযায়ী, গত ছয় বছরে মিরসরাইয়ের বিভিন্ন ঝরনায় ছোট-বড় ৩৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় সাতজন পর্যটক প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৫১ জন।
দুর্ঘটনা এড়াতে যা মানতে হবে
বন বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলছেন, কয়েকটি সাধারণ নিয়ম মেনে চললে অধিকাংশ দুর্ঘটনাই এড়ানো সম্ভব। তাদের পরামর্শ হলো—১. দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বা পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কা থাকলে ঝরনা ভ্রমণ এড়িয়ে চলা। ২. ঝিরিপথে থাকা ডুবোগর্ত ও পিচ্ছিল পাথর সম্পর্কে সতর্ক থাকা। ৩. কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অমান্য করে ঝরনার চূড়ায় না ওঠা। ৪. ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে দাঁড়িয়ে সেলফি না তোলা। ৫. সম্ভব হলে স্থানীয় গাইড সঙ্গে নেওয়া এবং ৬. বন বিভাগ ও ইজারাদারের দেওয়া নির্দেশনা মেনে চলা।