‘সরকার গণভোট অগ্রাহ্য করে অপমান করেছে, সেই প্রতিশোধ নিতে আমরা নেমেছি’

১১–দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ গাজীপুরের ভোগরা বাইপাসে পৌঁছালে সেখানে পথসভায় বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। আজ শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকেছবি: সাদিক মৃধা

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটে হ্যাঁ বলেছিলেন ৭০ ভাগ মানুষ। সরকার গণভোটকে অগ্রাহ্য করে তাঁদের অপমান করেছে। সেই অপমানের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তাঁরা রাস্তায় নেমেছেন।

১১–দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ আজ শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাসে পৌঁছায়। সেখানে পথসভায় এ কথা বলেন শফিকুর রহমান।

জামায়াতের আমির বলেন, ‘আপনাদের দাবিতে আমরা রাস্তায় নেমেছি। কোনো দলীয় নয়, ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে নেমেছি।’ জনগণের স্বার্থে ঘোষিত আট দফা দাবি যেকোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

আরও পড়ুন

শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিবিজড়িত রংপুরের উদ্দেশে আমাদের লংমার্চ শুরু হয়েছে। আমাদের লংমার্চ জনগণের ঘরে ঘরে গ্যাস পৌঁছে দেওয়া, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, রাস্তাঘাট, হাটবাজারসহ সর্বত্র চাঁদাবাজি বন্ধ এবং দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার দাবিতে। আমাদের এই লংমার্চ দুর্নীতিতে ছেয়ে যাওয়া দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার দাবিতে। আমাদের এই লংমার্চ আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। আমাদের এই লংমার্চ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি হয়েছে, তা থেকে উত্তরণের দাবিতে।’

গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে উপস্থিত নেতা–কর্মী ও জনতার উদ্দেশে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আপনারা গণভোটে হ্যাঁ বলেছিলেন ৭০ ভাগ মানুষ। সরকার আপনাদের গণভোটকে অগ্রাহ্য করে আপনাদের অপমান করেছে। সেই অপমানের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আমরা নেমেছি। জনগণের রায়ের বাস্তবায়ন ইনশা আল্লাহ এই বাংলার মাটিতে হবে। ওই বিএনপিই করতে বাধ্য হবে। পানি খাবে, কিন্তু ঘোলা করে খাবে।’

গাজীপুরের পথসভায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ ১১–দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

এর আগে আজ সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে ১১–দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শুরু হয়। উদ্বোধনী সমাবেশে শফিকুর রহমান সরকারকে জনতার দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর সমাবেশে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধী দলের আট দফা এক দফায় পরিণত হলে পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ হবে। সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আগে সরকার যেন সাম্প্রতিক অতীত থেকে শিক্ষা নেয়। সেই শিক্ষা নিয়ে সরকার যেন জনগণের দাবি মেনে নেয়। দাবি মানতে ব্যর্থ হলে কোনো চোখরাঙানিতে কাজ হবে না। বিরোধী দল কোনো কিছুতেই পরোয়া করবে না।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, চট্টগ্রামমুখী লংমার্চ সফল হওয়ায় অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে। এর কিছু লক্ষণ দুই দিন ধরে রাজধানীতে দেখা যাচ্ছে। তারা যেন হতাশ হয়ে মাথা গরম না করে জনতার দাবি মেনে নেয়।

জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম এবং দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন), এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ।

উল্লেখ্য, লংমার্চের ঘোষিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল গঠন, জুলাই গণহত্যার বিচার, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সারসংকট সমাধান, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।

এ কর্মসূচিকে ১১–দলীয় ঐক্যের দ্বিতীয় বড় লংমার্চ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়। জোটের ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া, সিলেট ও ঢাকায় আরও কর্মসূচি রয়েছে।