‘জনগণের প্রয়োজনে দফা বাড়তে পারে, আবার কমে এক দফাও হতে পারে’

১১–দলীয় ঐক্যের ঢাকা–রংপুর লংমার্চে টাঙ্গাইলে পথসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। শনিবার দুপুরে টাঙ্গাইল শহর বাইপাসের নগর জলফৈ মোড়েছবি: প্রথম আলো

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমাদের ছয় দফা আট দফায় পরিণত হয়েছে। জনগণের প্রয়োজনে দফা বাড়তে পারে, আবার জনগণের প্রয়োজনে সব দফা বিলুপ্ত করে এক দফা ঘোষণা করার প্রয়োজন হতে পারে। আপনারা প্রস্তুত আছেন? আজকের লংমার্চ আপনাদের দিকে। আগামীর লংমার্চ এখান থেকে ঢাকার দিকে। প্রস্তুত থাকবেন ইনশা আল্লাহ।’

শনিবার ১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চে অংশ নিয়ে টাঙ্গাইলে এক পথসভায় শফিকুর রহমান এ কথা বলেন। দুপুর ১২টার দিকে টাঙ্গাইল শহর বাইপাস সড়কের নগর জলফৈ মোড়ে এ পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে ১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শুরু হয়। পথে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাসে পথসভা অংশ নেন জোটের নেতারা।

আরও পড়ুন

টাঙ্গাইলের পথসভায় শফিকুর রহমান বলেন, ‘নব্য স্বৈরশাসক থেকে দেশকে থেকে মুক্ত করার জন্য আমরা রাস্তায় নেমেছি। এই লড়াই কার জন্য? জনগণের জন্য, আঠারো কোটি মানুষের জন্য। এ লড়াইয়ের আওয়াজ নিয়ে আমরা রাস্তায় নেমেছি। আপনাদের দাবি আদায় করে ঘরে ফিরব ইনশা আল্লাহ। এর মাঝখানে আর কোনো বিশ্রাম নাই, বিরতি নাই।’

১১–দলীয় ঐক্যের রংপুর অভিমুখী লংমার্চ শনিবার দুপুর ১২টার দিকে টাঙ্গাইল শহর বাইপাস এলাকায় পৌঁছায়। সেখানে পথসভায় আগত নেতা–কর্মীরা
ছবি: প্রথম আলো

বিএনপি সরকারের উদ্দেশে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘৭০ শতাংশ মানুষের ভোটের রায়কে কেন আপনারা সম্মান করলেন না? আপনারা কথা দিয়েছিলেন, কোনো জায়গায় অনির্বাচিত কাউকে দিয়ে শাসন করতে দেওয়া হবে না। কিন্তু জায়গায় জায়গায় আপনারা প্রশাসক বসিয়েছেন। আপনারা জাতির সঙ্গে ধোঁকাবাজি করেছেন। আপনারা জাতির সঙ্গে দেওয়া একটি কথাও রক্ষা করেননি। এই জাতি আপনাদের কাছে এই কার্ড, সেই কার্ড চায় নাই। এই কার্ডগুলোর কথা আপনারা বলেছিলেন, জাতিকে দেবেন। জাতি যা চেয়েছিল, তা আপনারা দিতে পারেন নাই।’

পথসভায় অন্যান্যের মধ্যে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান (মঞ্জু), জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রমুখ বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন

‘অপমানের প্রতিশোধ নিতে রাস্তায় নেমেছি’

এর আগে সকাল পৌনে ১০টার দিকে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাসে পথসভায় বক্তব্য দেন ১১–দলীয় ঐক্যের নেতারা। পথসভায় জামায়াতের আমির বলেন, ‘আপনাদের দাবিতে আমরা রাস্তায় নেমেছি। কোনো দলীয় নয়, ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে নেমেছি।’ জনগণের স্বার্থে ঘোষিত আট দফা দাবি যেকোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

১১–দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চে অংশ নিয়ে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাসে পথসভায় বক্তব্য দেন শফিকুর রহমান। শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে
ছবি: সাদিক মৃধা

শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিবিজড়িত রংপুরের উদ্দেশে আমাদের লংমার্চ শুরু হয়েছে। আমাদের লংমার্চ জনগণের ঘরে ঘরে গ্যাস পৌঁছে দেওয়া, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, রাস্তাঘাট, হাটবাজারসহ সর্বত্র চাঁদাবাজি বন্ধ এবং দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার দাবিতে। আমাদের এই লংমার্চ দুর্নীতিতে ছেয়ে যাওয়া দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার দাবিতে। আমাদের এই লংমার্চ আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। আমাদের এই লংমার্চ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি হয়েছে, তা থেকে উত্তরণের দাবিতে।’

গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে উপস্থিত নেতা–কর্মী ও জনতার উদ্দেশে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আপনারা গণভোটে হ্যাঁ বলেছিলেন ৭০ শতাংশ মানুষ। সরকার আপনাদের গণভোটকে অগ্রাহ্য করে আপনাদের অপমান করেছে। সেই অপমানের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আমরা নেমেছি। জনগণের রায়ের বাস্তবায়ন ইনশা আল্লাহ এই বাংলার মাটিতে হবে। ওই বিএনপিই করতে বাধ্য হবে। পানি খাবে, কিন্তু ঘোলা করে খাবে।’

‘আট দফা এক দফায় পরিণত হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে’

এর আগে আজ সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে ১১–দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শুরু হয়। উদ্বোধনী সমাবেশে শফিকুর রহমান সরকারকে জনতার দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর সমাবেশে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধী দলের আট দফা এক দফায় পরিণত হলে পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ হবে। সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আগে সরকার যেন সাম্প্রতিক অতীত থেকে শিক্ষা নেয়। সেই শিক্ষা নিয়ে সরকার যেন জনগণের দাবি মেনে নেয়। দাবি মানতে ব্যর্থ হলে কোনো চোখরাঙানিতে কাজ হবে না। বিরোধী দল কোনো কিছুতেই পরোয়া করবে না।

রংপুরমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে আগত নেতা–কর্মী ও সমর্থকেরা। শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে
ছবি: তানভীর আহাম্মেদ

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, চট্টগ্রামমুখী লংমার্চ সফল হওয়ায় অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে। এর কিছু লক্ষণ দুই দিন ধরে রাজধানীতে দেখা যাচ্ছে। তারা যেন হতাশ হয়ে মাথা গরম না করে জনতার দাবি মেনে নেয়।

উল্লেখ্য, লংমার্চের ঘোষিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল গঠন, জুলাই গণহত্যার বিচার, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সারসংকট সমাধান, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।

এ কর্মসূচিকে ১১–দলীয় ঐক্যের দ্বিতীয় বড় লংমার্চ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়। জোটের ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া, সিলেট ও ঢাকায় আরও কর্মসূচি রয়েছে।