এর আগে ১৪ জুলাই প্রথম আলোর প্রথম পাতায় ‘ফেসবুকে কিডনি কেনাবেচা, দাতা এখন দালাল’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর ২০ জুলাই র‍্যাব অভিযান চালিয়ে রাজধানী ঢাকা থেকে কিডনি বিক্রি চক্রটির পাঁচজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।

সংবাদ সম্মেলনে এসপি মাছুম আহাম্মদ ভূঞা বলেন, কালাই উপজেলার পূর্ব সারাইল গ্রামের রায়হান মণ্ডল ঢাকায় রিকশা চালাচ্ছিলেন। সম্প্রতি দরিদ্র এ রিকশাচালক আরও অভাবে পড়েন। সম্প্রতি কিডনি বিক্রি চক্রের দালাল সরাইল গ্রামের ফুল মিয়া, লক্ষ্মীচাপর গ্রামের জুয়েল রানা ও ছত্রগ্রামের ফিরোজ হোসেন তাঁর অভাবের কথা জানতে পারেন। এরপর তাঁরা রায়হানের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে রায়হান ও তাঁর স্ত্রী মোসলেমাকে (২৫) কিডনি বিক্রিতে রাজি করান। কিডনি বিক্রি বাবদ রায়হানকে সাড়ে চার লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। আর রায়হানের স্ত্রীর কিডনি বিক্রির বিষয়টি পাইপলাইনে রাখা হয়। চট্টগ্রামের এক ব্যক্তির কাছে রায়হানের কিডনি বিক্রির জন্য ঠিক করেন দালালেরা। এরপর রায়হানের পাসপোর্ট ও ভারতের ভিসা করা হয়। চট্রগ্রাম থেকে রায়হানের ভারতের যাওয়ার কথা ছিল। এ জন্য গতকাল রাতে দালালেরা কালাই থেকে তাঁকে নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। খবর পেয়ে গোয়েন্দা পুলিশ পুনট বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তিন দালালকে আটক করে। তাঁরা পুলিশের কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

একই দালাল চক্রের প্ররোচনায় কালাই উপজেলার বহুতি গ্রামের তরুণ রাজু হোসেন (২৫) আড়াই মাস আগে ভারতে গিয়ে কিডনি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন এসপি মাছুম আহাম্মদ ভূঞা।

অভাবে পড়ে কিডনি বিক্রি করতে রাজি হয়েছিলেন জানিয়ে রিকশাচালক রায়হান মণ্ডল বলেন, ‘কথা পাকাপাকি হওয়ার পর ফুল মিয়া ও তাঁর লোকজন আমাকে অগ্রিম ৩০ হাজার টাকা দেন। তাঁরা চট্টগ্রাম থেকে আমার পাসপোর্ট করান। ভিসাও হয়েছিল। চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে আমাদের ধরে ফেলে পুলিশ।’

ছত্রগ্রামের ফিরোজ হোসেনকে কিডনি বিক্রিতে প্রলুব্ধ করেছিলেন জানিয়ে তরুণ রাজু হোসেন বলেন, ‘আড়াই মাস আগে ভারতের দিল্লিতে আমার কিডনি নেওয়া হয়। আমি কিডনি বিক্রি করে সাড়ে চার লাখ টাকা পেয়েছি। আমার মতো এলাকার অনেকে কিডনি দেওয়ার জন্য ভারতে অবস্থান করছেন।’

পুলিশের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে এসপি মাছুম আহাম্মদ ভূঞা প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ এ পর্যন্ত কিডনি বিক্রি চক্রের ৫৩ দালালকে গ্রেপ্তার করেছে। এ ছাড়া র‍্যাবও কয়েকজন দালালকে গ্রেপ্তার করেছে। চক্রটির হোতা আবদুস সাত্তার এখন বিদেশে অবস্থান করছেন। তিনি দুবাই বা ভারতে আছেন বলে জানা গেছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন