অবৈধ পথে ইতালি যাচ্ছিলেন, হাঙ্গেরিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু

ফরিদুর রহমানছবি: পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া

দালাল চক্রের ফাঁদে পড়ে অবৈধ পথে ইতালি যাওয়ার সময় হাঙ্গেরিতে এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার ওই বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি তাঁর পরিবারকে জানায় পুলিশ।

মারা যাওয়া ওই বাংলাদেশি যুবকের নাম ফরিদুর রহমান (৩২)। তিনি ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের পূর্ব বারাহীগুনী গ্রামের সফি ডাক্তার বাড়ির মফিজুর রহমানের ছেলে। ফরিদুরের পাঁচ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। গত ১৬ জুন ইতালিতে যাওয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়েন ফরিদুর রহমান।

ফরিদুরের ভাই কাজী মোহাম্মদ বাবুল বলেন, ফরিদুর আগে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবপ্রবাসী ছিলেন। এক বছর আগে সেখান থেকে দেশে ফেরেন। এরপর দেশের একটি দালাল চক্রের ফাঁদে পড়ে ইতালিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ১৮ লাখ টাকার বিনিময়ে তাঁকে ইতালিতে নিয়ে যাওয়ার কথা হয় দালাল চক্রের। এরই ধারাবাহিকতায় ১৬ জুন ফরিদুরকে প্রথমে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নেওয়া হয়। এরপর নর্থ মেসিডোনিয়া, সার্বিয়া হয়ে সড়কপথে হাঙ্গেরিতে নেওয়া হয়েছে। সেখানে জঙ্গলের মধ্যে রাখায় ফরিদুর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

ফরিদুরের আরেক ভাই কাজী নজরুল ইসলাম বলেন, গত ২৪ জুন তাঁর সঙ্গে ফরিদুরের ফোনে কথা হয়। এর পর থেকে ফরিদুরের সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে দুলাল নামে দালাল চক্রের এক সদস্যের বাড়িতে গিয়ে তিনি ভাইয়ের খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় দুলাল খবর নিয়ে জানান, ফরিদুর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা বলা যাবে না বলে জানান দুলাল। এরপর কয়েক দফায় গিয়েও দুলালকে আর বাড়িতে পাওয়া যায়নি। পরে গতকাল দাগনভূঞা থানা-পুলিশ এসে জানায়, তাঁর ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। কখন ভাই মারা গেছেন, সেটিও পুলিশ জানাতে পারেনি।

জানতে চাইলে দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম বলেন, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ফরিদুরের ঠিকানা যাচাই করতে বলা হয়েছিল। নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁর বাড়িতে গিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করে পরিবারকে মৃত্যুর বিষয়টি জানানো হয়েছে। ফরিদুর রহমানের লাশ বর্তমানে হাঙ্গেরিতে রয়েছে।

দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীদুল ইসলাম বলেন, ‘হাঙ্গেরিতে দাগনভূঞার এক যুবক মারা যাওয়ার বিষয়টি জেনেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা প্রয়োজন হলে পরিবারটিকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।’