ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার সমানে সমান টক্কর, উত্তেজনা তুঙ্গে

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার পত্নীতলা বাজারে চায়ের দোকানে নির্বাচনী আড্ডা। গতকাল শনিবার সকালেছবি: প্রথম আলো

একক প্রার্থী থাকায় শুরুর দিকে অনেকটা নির্ভার ছিল বিএনপি। তবে নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে, ভোটের সমীকরণ ততই পরিবর্তন হচ্ছে। এখন ধানের শীষের সঙ্গে দাঁড়িপাল্লা সমানে সমান টক্কর দিচ্ছে। দাঁড়িপাল্লা এমন টক্কর দেবে, কল্পনাও করেননি বিএনপির লোকেরা। এখন কে জিতবে, কে হারবে নির্ধারণ করা বেশ কঠিন।

নওগাঁ-২ (পত্নীতলা-ধামইরহাট) আসনের ভোটার কলেজশিক্ষক জাহিদুল ইসলাম (৪৮) এভাবেই তাঁর আসনের ভোটের চিত্র বর্ণনা করছিলেন। পত্নীতলা উপজেলার বরথা বাজারে তাঁর সঙ্গে কথা হয়।

জাহিদুল ছাড়াও নজিপুর পৌরসভা, বরথা বাজার ও মধইল বাজার, ধামাইরহাট উপজেলার ধামইরহাট পৌরসভাসহ বেশ কিছু এলাকা ঘুরে অন্তত ২০ জন ভোটারের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। প্রায় সবাই মনে করেন, বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।

১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ চারটি নির্বাচনে এ আসনে দুবার করে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ জিতেছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবার এখানে বিএনপির প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় কৃষিবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য সামসুজ্জোহা খান। তাঁর বিপরীতে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির এনামুল হক ও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মতিবুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনজনের মধ্যে মতিবুলের এলাকায় তেমন পরিচিতি নেই। প্রচার-প্রচারণাও নেই বললেই চলে। এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মধ্যে।

আরও পড়ুন

বিএনপির সমর্থকদের মতে, এখানে সামসুজ্জোহা খান ছাড়াও বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত নেতা খাজা নাজিবুল্লাহ চৌধুরী। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী না হলেও দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে পত্নীতলা উপজেলা বিএনপির সদস্য পদ থেকে ১ ফেব্রুয়ারি তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। এ ছাড়া খাজা নাজিবুল্লাহ চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ধামইরহাট উপজেলা বিএনপির সদস্য রুহুল আমিন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক তহিদুল ইসলাম ও ধামইরহাট পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হোসেনকে বহিষ্কার করা হয়। এতে ভেতরে–ভেতরে দূরত্ব তৈরি হয়। নিজেদের অভ্যন্তরীণ দূরত্ব ঘোচাতে না পারলে ভোটে প্রভাব পড়তে পারে।

শনিবার সকালে পত্নীতলা বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন বিভিন্ন বয়সের ছয় থেকে সাতজন। তাঁদের মধ্যে আলোচনার মূল বিষয় ছিল ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন। কারও মুখে ধানের শীষের প্রার্থী সামসুজ্জোহা খানের গুণগান, আবার কারও মুখে জামায়াতের প্রার্থী এনামুল হকের গুণগান।

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার বরথা বাজারে চায়ের দোকানে নির্বাচনী আড্ডা। গতকাল শনিবার সকালে
ছবি: প্রথম আলো

আনিছার মণ্ডল (৫৫) নামের একজন বললেন, ‘পত্নীতলা-ধামইরহাটে জামায়াত-বিএনপি সমানে সমান। আওয়ামী লীগ এবার ভোটত না অ্যালেও বিএনপির প্রার্থীর ঘুম নাই। আগে যাঁরা নৌকাত ভোট দিতো তাঁদের ম্যাক্সিমাম লোক এবার ভোট দিতে যাবে। এখানে নৌকার যত ভোট আছে, ভোটগুলা ভাগাভাগি হয়ে গেছে। এবার ভোটত অনেক হিসাব-নিকাশ হবে। যেই জিতুক না ক্যান, অনেক কম ভোটের ব্যবধানে জিতবে।’

রফিকুল ইসলাম (৩৫) নামের আরেকজন বলেন, ‘এবার ভোটত খ্যালা ভালোই জমিছে। প্রথম দিকে মনে হছিল ধানের শীষ হেলায়-ফেলায় জিতে য্যাবে। কিন্তু দিন যতই য্যাচ্ছে ভোটাগেরে সুর ততই পাল্টাছে। শেয়ানে শেয়ানে লড়াই হবে। ধানের শীষের সঙ্গে দাঁড়িপাল্লার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে প্রতিটি কেন্দ্রে।’

আরও পড়ুন

ধামইরহাট পৌরসভার আমাইতাড়া এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘নির্বাচন এখানে জমজমাট হবে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের সংঘাত না হলেও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। এতে সাধারণ ভোটারদের মনে ভয় কাজ করছে। ভোট নিয়ে ধানের শীষের সঙ্গে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীর অনুসারীদের কোনো সংঘর্ষ হয় কি না, তা নিয়ে সবাই চিন্তিত। কারণ, দুই পক্ষই এখানে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। কেউই পরাজয় মানতে চাইবে না।’

নওগাঁ-২ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭২ হাজার ৪৩৬ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৩৭৫ জন পুরুষ ও ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯ জন নারী ভোটার। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছেন ২ জন। আওয়ামী লীগের ‘ভোটব্যাংক’ বিএনপি না জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে যাবে, সেই হিসাব-নিকাশ করছে দুই দল।