ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল ১৫ দিন আগে বাবা হওয়া মইনুলের
মইনুল ইসলাম ওরফে নাহিদ (২১) বিয়ে করেন এক বছর আগে। ১৫ দিন আগে তিনি বাবা হয়েছেন। এসেছে ফুটফুটে পুত্রসন্তান, ঘরে আনন্দের সীমা নেই। মুহূর্তেই সেই আনন্দ বিষাদে পরিণত হলো। হঠাৎ এক সড়ক দুর্ঘটনায় না ফেরার দেশে চলে গেছেন মইনুল ইসলাম।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে মোটরসাইকেলে পণ্যবাহী একটি ট্রাক পেছন থেকে ধাক্কা দিলে নিহত হন মইনুল ইসলাম। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা সদরের সৈয়দটুলা গ্রামের ফুল মিয়ার ছোট ছেলে। তিনি ব্যবসায়ী বাবার সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যায় দুই বন্ধুকে নিয়ে মইনুল ইসলাম মোটরসাইকেল চালিয়ে উপজেলার শাহবাজপুর এলাকা থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। রাত সাড়ে আটটার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইল উপজেলার ইসলামাবাদ এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটিতে পণ্যবাহী একটি ট্রাক পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মইনুলসহ তিন আরোহী মোটরসাইকেল থেকে সড়কে ছিটকে পড়েন। তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মইনুলকে মৃত ঘোষণা করেন। মোটরসাইকেলটি মইনুল চালাচ্ছিলেন।
আহত অপর দুই আরোহী হলেন জুনায়েদ আহমেদ (২২) ও আলাল মিয়া (২২)। তাঁদেরকে দুজনকে প্রথমে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে জুনায়েদকে ঢাকায় এবং আলালকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠনো হয়। মোটরসাইকেলের আরোহীদের মধ্যে চালক মইনুলের মাথায় হেলমেট ছিল। অন্য দুই আরোহীর মাথায় হেলমেট ছিল না।
মইনুলের বাবা ফুল মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুই বছর আগে আমার ছেলে এই মোটরসাইকেল কেনে। এটি তার কাল হলো। বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে আমার ছেলের সর্বনাশ হলো।’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মারগুব তৌহিদ প্রথম আলোকে বলেন, তখন মহাসড়কে থেমে থেমে যানজট ছিল। যানবাহনগুলো ধীরগতিতে চলছিল। মোটরসাইকেলসহ ওই তিন আরোহীও চলে গেছেন। এ ঘটনায় কোনো যানবাহনই জব্দ করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সড়ক আইনে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।