মাদারীপুরে সালিসে কথা-কাটাকাটির জেরে কুপিয়ে হত্যা, বসতঘরে আগুন

নিহত জাকির শেখের স্ত্রী রেবা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেছবি: প্রথম আলো

মাদারীপুরে জামাতার বসতঘরে চুরির ঘটনায় সালিস ডাকা হয়। শ্বশুর সেখানে গেলে কথা–কাটাকাটির জেরে অন্য পক্ষের লোকজন তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করেন। আজ মঙ্গলবার সকালে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এদিকে ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পাঁচটি বসতঘরে আগুন দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা।

নিহত ওই ব্যক্তির নাম জাকির শেখ (৪৭)। তিনি রাজৈর বাসস্ট্যান্ড এলাকার ফল ব্যবসায়ী ও মজুমদারকাদি এলাকার বাসিন্দা।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে রাজৈর উপজেলার আমগ্রাম ইউনিয়নের মধ্যপাড়া এলাকার রাসেল ব্যাপারীর বসতঘরে চুরির ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী। আজ সকালে একই এলাকার আবদুল মজিদ খানের পরিবারের সঙ্গে সালিস-বৈঠকের আয়োজন করেন এলাকার মাতব্বরেরা। সেখানে উভয় পক্ষের কথা–কাটাকাটির জেরে রাসেলকে দেশি অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। বাধা দেওয়ায় এক নারীসহ রাসেলের পরিবারের আরও চারজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেন প্রতিপক্ষের লোকজন।

পরিবার জানায়, এ ঘটনার আধঘণ্টা পর আবার সালিসের জন্য মাতব্বরেরা রাসেলের শ্বশুর জাকির শেখকে তাঁর জামাতার বাড়িতে ডাকেন। জাকির ওই সালিসে এলে তাঁর সঙ্গেও অন্য পক্ষের কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাঁকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন মজিদ খান, তাঁর ছেলেসহ আরও কয়েকজন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন জাকিরকে উদ্ধার করে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পাঁচটি বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষুব্ধ লোকজন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। এ ঘটনার পর ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

দুপুরে জাকির শেখের স্ত্রী রেবা বেগম রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আহাজারি করছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী গেছিল সালিসে কথা শুনতে, তারে কোপাইয়া মাইরা ফালাইছে। হ্যারে চিইনা হুইনা মাইরা দিল। রামদা দিয়া কোপাইছে। আমার স্বামীর দোষটা কী? আমার স্বামীর হত্যাকারীগো বিচার চাই।’

জাকির শেখের জামাতা রাসেল ব্যাপারী বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে আমার শ্বশুরকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সামান্য চুরির বিষয় নিয়ে এভাবে হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা হবে, সেটা বুঝতে পারিনি। যদি বুঝতে পারতাম, তাহলে কখনোই শ্বশুরকে সালিসে পাঠাতাম না।’

জাকির শেখের মেয়ে তাজনুর আক্তার বলেন, ‘আমার বাবা তো কোনো দোষ করে নাই। তাহলে তাকে কেন কোপাইয়া মাইরা ফালানো হলো? আমার বাবার হত্যাকারী আবদুল মজিদ খানসহ তার সঙ্গে যারা ছিল, তাদের ফাঁসি চাই।’

ঘটনার পর পালিয়ে যান অভিযুক্ত আবদুল মজিদ খান ও তাঁর পরিবারের লোকজন। মজিদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

রাজৈর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কুতুব উদ্দিন বলেন, চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দোষী ব্যক্তিদের ধরতে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।