পদ্মা সেতু দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ যাতায়াত করে। আগে মানুষ শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ও শিমুলিয়া-জাজিরা নৌপথে ফেরি, লঞ্চ ও স্পিডবোটে চলাচল করত। তাই দিনে দিনে মানুষ পদ্মা নদী পার হতো। এখন পদ্মা সেতু থাকার কারণে সার্বক্ষনিক যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে। গতকাল দিনভর দক্ষিনের অনেক যানবাহন ঢাকা গেছে। তবে কোনো যানজট দেখা যায়নি।

ভোগান্তি ছাড়াই মানুষ টোল প্রদান করে সেতুতে উঠতে পেরেছে। সন্ধ্যার পরই চিত্র পাল্টে যায়। পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে ঢাকামুখী যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। রাত যত বাড়ে, যানজট তত দীর্ঘ হয়। ভোররাত পর্যন্ত টোল প্লাজার সামনে থেকে সংযোগ সড়কের নাওডোবা জমাদ্দার মোড় পর্যন্ত দুই কিলোমিটারজুড়ে যানবাহন আটকা পড়েছে। প্রতিটি যানবাহন এক ঘণ্টার ওপরে অপেক্ষা করার পর টোল প্রদান করে সেতুতে উঠেছে।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সহকারী প্রকৌশলী পার্থ সারথি বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, পদ্মা সেতুর কারণে দেশের ২১টি জেলার ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা এসেছে। দিনভর দক্ষিণের জেলাগুলোয় প্রয়োজনীয় কাজ করেন মানুষ। কাজ শেষে রাতে তাঁরা ঢাকায় ফিরেছেন। এ ছাড়া ঈদে গ্রামে যাওয়া মানুষ এখনো ঢাকায় ফিরছেন। তাঁরা দিনের পরিবর্তে অনেকে রাতে ঢাকায় ফিরছেন। ফলে সন্ধ্যা হলেই ঢাকামুখী গাড়ির চাপ বেড়ে যায়। তখন যানজট সৃষ্টি হয়।

শরীয়তপুর পৌর বাস টার্মিনাল থেকে রাত ১০টায় ৪০ জন যাত্রী নিয়ে শরীয়তপুর সুপার সার্ভিসের একটি বাস ঢাকার দিকে ছেড়ে যায়। রাত ১১টার দিকে তারা নাওডোবার জমাদ্দার মোড়ে পৌঁছায়। বাসটির সুপারভাইজার মো. সবুজ মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘যানজটে আমরা বাস নিয়ে এখনো পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়কে উঠতে পারিনি। আমাদের সামনে দুই কিলোমিটার সড়কে যানবাহনের জট রয়েছে। দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করে টোল প্লাজায় পৌঁছেছি।’

ঢাকা-খুলনা সড়কের এমাদ পরিবহনের চালক ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘১ ঘণ্টা ধরে সংযোগ সড়কে বসে আছি। এখন প্রতিদিন রাতে যানজট থাকে। আমাদের এক-দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করে সেতুতে উঠতে হয়। যাত্রীরা বিরক্ত হয়ে পড়ে। তখন আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে থাকে।’

পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের টোল প্লাজার ব্যবস্থাপক কামাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘যানবাহন থেকে টোল আদায় করার জন্য ছয়টি বুথ রয়েছে। সেখানে থেকে যানবাহন টোল প্রদান করে সেতুতে ওঠে। একেকটি গাড়ির টোল দিতে সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৫০ সেকেন্ড সময় লাগে। সড়কে গাড়ির চাপ থাকায় চার দিন ধরে রাতে একটু বেশি যানজট দেখা যাচ্ছে। ঈদের ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে মানুষ ফিরার পর আর এমন যানজট হবে না বলে আমাদের ধারণা।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন