স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, গ্রামের কয়েকজন ভূমিহীন মানুষ একসময় ওই জমিতে থাকার জন্য ঘর ওঠাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সরকারের লোকজন ওঠাতে দেননি। এখন প্রভাবশালী ব্যক্তি দখল করায় সরকারি কর্মকর্তারা হাত-পা গুটিয়ে ফেলেছেন। তাঁরা লিখিত অভিযোগ দিলেও কর্মকর্তারা নামমাত্র পরিদর্শন করেছেন। দখল উচ্ছেদের কোনো পদক্ষেপ নেননি। এর ফলে দখলদারের বাগানবাড়ির কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে।

■ ১৩৫ নম্বর সুন্দরপুর মৌজার ২৯৯ দাগের ৪৩ শতক জমি সরকারের।

■ অবৈধভাবে বাগানবাড়ি নির্মাণের বিষয়ে ১২ সেপ্টেম্বর লিখিত অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে ফয়জুর রহমান চৌধুরী বলেন, তাঁর জায়গাটি হিন্দুদের কাছ থেকে ক্রয় করা। জায়গাটি প্রায় ৩০ বছর ধরে তাঁর দখলে আছে। সেখানে আগে খামার করেছিলেন, এখন বাগানবাড়ির মতো করছেন। তাঁর পরিবারের সদস্যরা সবাই ঢাকায় থাকেন। তিনি একাই এখানে থাকেন। বাগানবাড়ির আনুমানিক ৬ শ মিটার দূরে তাঁর দোতলা বাড়ি আছে। সেখানে তিনি থাকেন না। স্থানীয় একটি মহল তাঁর সম্মান নষ্ট করতে অভিযোগ দিচ্ছে।

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামে একসময় হিন্দু সম্প্রদায়ের বিত্তশালী ব্যক্তিরা বসবাস করতেন। তাঁদেরই একজন ছিলেন লক্ষণ প্রামাণিক। গ্রামের বয়োবৃদ্ধ আরজ আলী বলেন, ১৯৪৭ সালের পর তাঁদের এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেক মানুষ ভারতে চলে যান। লক্ষণ প্রামাণিকও পরিবার নিয়ে ভারতে চলে গেছেন। যাওয়ার সময় বেশ কিছু জায়গাজমি ফেলে রেখে যান, যা পরবর্তী সময়ে ভিপি তালিকাভুক্ত হয়ে যায়।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভালাইপুর-সুন্দরপুর সড়কের ধারের ১৩৫ নম্বর সুন্দরপুর মৌজার আর এস ১/১ খতিয়ানের ২৯৯ দাগের ৪৩ শতক জমি। এই জমি সরকারের হয়ে যায়, তবে সরকারের দখলে যায়নি। সরকার কখনো জমি দখল নিতে আসেনি।

দীর্ঘদিন এভাবে পড়ে থাকার পর গ্রামের দরিদ্র মানুষ ওই জমিতে চাষাবাদ করার চেষ্টা করেছিলেন। তখন সরকারের ভূমি অফিসের লোকজন জমিতে কাউকে না যাওয়ার নির্দেশ দেন।

গ্রামের ভূমিহীন সিরাজুল ইসলাম বলেন, তাঁর যখন মাথা গোঁজার মতো কোনো জায়গা ছিল না, তখন ওই জমিতে ঘর তৈরি করে বসবাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু ভূমি অফিসের লোকজন করতে দেননি। এভাবে জমিটি দীর্ঘদিন পড়ে ছিল। সেখানে বড় বড় মেহগনি ও কড়ইগাছ ছিল।

সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করে বাগানবাড়ি নির্মাণের বিষয়ে ১২ সেপ্টেম্বর লিখিত অভিযোগ করেছেন গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা। তাঁরা মহেশপুর উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে অভিযোগ করেন এবং দ্রুত কাজ বন্ধসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। ডিটল চৌধুরী বলেন, তাঁরা অভিযোগ দেওয়ার পর স্থানীয় এসবিকে ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা মো. আরিফ হোসেন ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন, কিন্তু কাজ বন্ধ হয়নি। উল্টো কাজের গতি বেড়েছে।

ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মো. আরিফ হোসেন বলেন, ১৩৫ নম্বর সুন্দরপুর মৌজার ২৯৯ দাগের ৪৩ শতক জমি সরকারের। এখানে কোনো ব্যক্তির পাকা ঘর নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। ফয়জুর রহমান চৌধুরী ঘর করছেন খবর পেয়ে তাঁরা গিয়েছিলেন, কাজ না করার নির্দেশও দিয়েছেন। তারপরও কাজ করছেন। বিষয়টি তিনি সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) জানিয়েছেন। আরিফ হোসেন আরও বলেন, ফয়জুর রহমানের দাবি, এই জমি তাঁর। এ বিষয়ে আদালতে একটি মামলাও করেছেন। কিন্তু মামলা করেই সরকারি জমি দখল নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী আতিকুল ইসলাম বলেন, তিনি বিষয়টি মাত্রই শুনলেন। খোঁজ নিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন