শামীম আরার হাতে নগদ ৩৮ লাখ টাকা, সাকিলার আছে ৫৫ ভরি সোনা

শামীম আরা বেগম, সাকিলা ফারজানা, মাধবী মারমাফাইল ছবি

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে মনোনীত তিন প্রার্থীর মধ্যে সম্পদ ও আয়ে এগিয়ে আছেন কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামীম আরা বেগম স্বপ্না। নগদ টাকাও তাঁর বেশি—৩৮ লাখ ৮২ হাজার ৪৬০ টাকা। নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর মোট (অর্জনকালীন) সম্পদের পরিমাণ ৪ কোটি ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৩৬৭ টাকা।

বিএনপির মনোনীত এই তিন প্রার্থী হলেন—শামীম আরা বেগম স্বপ্না, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য সাকিলা ফারজানা এবং বান্দরবানের আইনজীবী মাধবী মারমা। গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাকিলা ফারজানা চট্টগ্রাম-৫ আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন, তবে পরে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।

শামীম আরা স্বপ্না প্রায় দুই দশক ধরে কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জেলা আদালতের সাবেক সরকারি কৌঁসুলি (পিপি)। সাকিলা ফারজানা প্রয়াত হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে। অন্যদিকে মাধবী মারমা বিএনপি বা এর সহযোগী সংগঠনের কোনো পদে আছেন কি না, সে বিষয়ে দলীয় সূত্রে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার ১৭ এপ্রিল শুরু করে বিএনপি। দলটির মনোনয়ন বোর্ড প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেয়। আগামী ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ৫০টি; প্রতি ছয়জন সাধারণ সদস্যের বিপরীতে একটি করে আসন বণ্টন করা হয়।

সম্পদ-আয়ে এগিয়ে শামীম আরা

হলফনামা অনুযায়ী, শামীম আরা বেগম স্বপ্নার শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএসসি এবং পেশা আইন। ৬৫ বছর বয়সী এই নেত্রীর বার্ষিক আয় ২ কোটি ৫৯ লাখ ৫১ হাজার ৩৮৩ টাকা। এর মধ্যে জমি বিক্রি থেকে মূলধনি আয় দেখিয়েছেন ২ কোটি ৩৬ লাখ ৯৮ হাজার টাকা।

তাঁর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৫৩ লাখ ২১ হাজার ২২৫ টাকা। নগদ অর্থ রয়েছে ৩৮ লাখ ৮২ হাজার ৪৬০ টাকা। স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৪৫ লাখ ৯২ হাজার ৯৮৪ টাকা। এর মধ্যে ৩ হাজার ৬৮৫ বর্গফুটের আবাসিক জমির মূল্য ১ কোটি ৪২ লাখ ১২ হাজার ৯৮৪ টাকা এবং ৩৪০ বর্গফুটের দুটি দোকানের মূল্য ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

সাকিলা ফারজানা হলফনামায় নিজের পেশা আইনজীবী এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বার্ষিক আয় ১৪ লাখ ২৫ হাজার ৪০ টাকা, যার পুরোটাই আইন পেশা থেকে। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৪৭ লাখ ৩৯ হাজার ৫৭৪ টাকা। নগদ অর্থ রয়েছে ৫ লাখ ৪ হাজার ৯১৭ টাকা।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় জমা দেওয়া হলফনামার সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, তাঁর অস্থাবর সম্পদের মূল্য বেড়েছে। আগে যেখানে তা ছিল ৯৮ লাখ ১৪ হাজার ৫৩৪ টাকা, বর্তমানে তা ১ কোটি ১২ লাখ ৩৯ হাজার ৫৭৪ টাকা। তবে স্থাবর সম্পদের পরিমাণ অপরিবর্তিত রয়েছে।

মাধবী মারমা পেশায় আইনজীবী এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা এলএলএম। তাঁর বার্ষিক আয় ৫ লাখ ৮৭ হাজার ১৯৭ টাকা। এর মধ্যে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৩৩৩ টাকা বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে প্রাপ্ত সম্মানী। আইন পেশা থেকে আয় প্রায় আড়াই লাখ টাকা। তাঁর কোনো স্থাবর সম্পদ নেই। অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২১ লাখ ১৭ হাজার ১৯৭ টাকা। নগদ রয়েছে ৫২ হাজার ১৩২ টাকা।

আরও পড়ুন

সোনা, গাড়ি ও আয়করের তথ্য

তিন প্রার্থীর হলফনামায় সোনা ও স্বর্ণালংকারের তথ্যও রয়েছে। সাকিলা ফারজানার কাছে ৫৫ ভরি সোনা রয়েছে, তবে এর মূল্য উল্লেখ নেই। শামীম আরা বেগম ২০ ভরি সোনার মূল্য দেখিয়েছেন ১০ হাজার টাকা। মাধবী মারমার কাছেও ২০ ভরি সোনা রয়েছে, যা মূল্যহীন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যক্তিগত গাড়ি রয়েছে শামীম আরা বেগম ও সাকিলা ফারজানার। শামীম আরার নামে ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি এক্স নোহা গাড়ি রয়েছে। সাকিলা ফারজানার রয়েছে ৮৫ লাখ ৮৯ হাজার ৬১০ টাকা মূল্যের একটি জিপ।

সর্বশেষ আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী, সাকিলা ফারজানা মোট সম্পদ দেখিয়েছেন ৯৪ লাখ ৪৮ হাজার ৯২৯ টাকা এবং আয় ১৪ লাখ ৩০ হাজার ৩২৮ টাকা। তিনি আয়কর দিয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৬৬ টাকা।

শামীম আরা বেগম তাঁর আয় দেখিয়েছেন ২ কোটি ৫৯ লাখ ৫১ হাজার ৩৮৩ টাকা এবং মোট সম্পদ ৩ কোটি ৯৯ লাখ ১৪ হাজার ২০৯ টাকা। তিনি আয়কর দিয়েছেন ১৭ লাখ ৪৬ হাজার ৩৩৭ টাকা।

অন্যদিকে মাধবী মারমা আয়কর দিয়েছেন ৯ হাজার ৩৯২ টাকা। তাঁর প্রদর্শিত আয় ৩ লাখ ১৮ হাজার ৮৬৪ টাকা এবং সম্পদ ২১ লাখ ১৭ হাজার ১৯৭ টাকা।