হবিগঞ্জ শহরের স্টাফ কোয়ার্টারে প্রায় এক একর আয়তনের একটি মাঠ রয়েছে। এ মাঠের উত্তর দিকে সরকারি আবাসিক এলাকা। দক্ষিণে স্টাফ কোয়ার্টার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। মাঠের অর্ধেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বাকি অর্ধেক দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত। এ অংশে বর্ষায় বৃষ্টির পানি জমে কচুরিপানা ও আবর্জনায় অনেকটা মজা পুকুরের রূপ ধারণ করে। ভারী বৃষ্টি হলে আবাসিক এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।

জলাবদ্ধতা দূর করতে গত শনিবার থেকে জেলা প্রশাসন মাঠের পূর্ব দিকে প্রায় ১০ শতক জায়গাজুড়ে বৃষ্টির পানি ধারণ করার জন্য একটি গর্ত তৈরির কাজ শুরু করে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে, পুরো মাঠটি কেটে পুকুর করছে জেলা প্রশাসন। প্রতিবাদ জানিয়ে অনেকেই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, ফেসবুকে নাগরিকদের প্রতিবাদ দেখে তাঁরা সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। পরে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেন। তখন জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, এখানে পুকুর করার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। মাঠের পরিত্যক্ত অংশে ‘রেইন ওয়াটার রিজার্ভার’ তৈরি করা হচ্ছে। তবে তাঁরা প্রশাসনকে জানিয়েছেন, কাজের সঠিক নকশা জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে, যাতে কোনো প্রশ্ন তৈরি না হয়। পাশাপাশি কাজ শেষে এ মাঠ যেন সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান প্রথম আলোকে বলেন, মাঠটি নিয়ে একটি ভুল-বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। এখানে পুকুর করার কোনো পরিকল্পনা নেই। মাঠটি এত দিন পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। মূল ভূমি থেকে মাঠটি দুই থেকে আড়াই ফুট নিচু হওয়ার কারণে এখানে কাদাপানি ও কচুরিপানার সৃষ্টি হয়েছে। এখন প্রশাসন এ মাঠের পরিত্যক্ত অংশকে ভরাট করে পুরো মাঠকে খেলাধুলার উপযোগী হিসেবে রূপান্তর করার কাজ করছে। এ নিয়ে ভুল-বোঝাবুঝির কিছুই নেই। এ কাজ শেষ হলে শহরের শিশুদের বিনোদনের আরও একটি স্থান হবে এ মাঠ।