১৭ বছর চালিয়েছেন পায়েচালিত রিকশা, ইজিবাইক উপহার পেয়ে আপ্লুত খলিলুর
দীর্ঘ ১৭ বছর প্যাডেলচালিত রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেছেন খলিলুর রহমান (৭২)। বয়সের ভার আর নানা রোগের কারণে এখন পুরোনো নড়বড়ে রিকশা চালানো তাঁর জন্য বেশ কষ্টকর। এতে কমে গিয়েছিল দৈনিক আয়। সেই স্বল্প আয়ে নিজের ও স্ত্রীর চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন তিনি।
এমন পরিস্থিতিতে খলিলুর রহমানকে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক কিনে দেওয়া হয়। দিনাজপুরের বিরামপুর পৌর শহরের সিইডি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় এই উপহার। ইজিবাইকের চাবি হাতে পেয়ে আপ্লুত হয়ে পড়েন খলিলুর। একবার চাবির দিকে, আরেকবার নতুন গাড়িটির দিকে তাকিয়ে ভিজে ওঠে তাঁর চোখ।
খলিলুর রহমানের বাড়ি বিরামপুর উপজেলার টাটকপুর গ্রামে। অভাবের সংসারে আছেন স্ত্রী ও এক মেয়ে। দীর্ঘ ৩৭ বছর তিনি গ্রামের একটি মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি সংসারের বাড়তি খরচ জোগাতে শহরে রিকশা চালাতেন। তবে চার বছর আগে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। গত বছর কণ্ঠস্বরেও সমস্যা দেখা দেয়, এর ফলে ছেড়ে দিতে হয় মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব। এতে সংসারের আয় কমে যায়।
গত সপ্তাহে বাংলাদেশ শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশনের পক্ষ থেকে খলিলুরকে ইজিবাইক দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরামর্শ অনুযায়ী নিজের পুরোনো রিকশাটি বিক্রি করেন খলিলুর। সেই অর্থের সঙ্গে সংগঠনের সহায়তা যোগ করে তাঁর জন্য কেনা হয় নতুন ইজিবাইকটি, যা গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
নতুন এই সহায়তা পেয়ে খলিলুর রহমান বলেন, পুরোনো রিকশা চালিয়ে আয় কম ছিল, আবার পায়ের সমস্যার কারণে ঠিকমতো চালাতেও পারতেন না। এখন ইজিবাইক পেয়ে তাঁর অনেক উপকার হবে। আয় বাড়বে, সংসারও কিছুটা ভালো চলবে বলে তাঁর প্রত্যাশা।
এর আগে বিরামপুরে খলিলুরের মতো আরও ৩৫ জনকে রিকশা দেওয়া হয়েছে বলে জানান বাংলাদেশ শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশনের বিরামপুর পৌর শাখার সভাপতি মজনুর রশিদ। তিনি বলেন, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে তাঁদের সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে। অসহায় ও অসুস্থ খলিলুর রহমানের পরিবারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে এবার তাঁকে একটি ইজিবাইক উপহার দেওয়া হলো।