মামলার বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, মামলার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ ঘটনায় জিডি বা অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে কি না, তা রূপগঞ্জ থানার পুলিশের কাছে জানতে চেয়েছেন। বিষয়টি তিন কার্যদিবসের মধ্যে আদালতকে জানানোর জন্য আদেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার আবেদনে যাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁরা হলেন ভুলতা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি রাশেদ ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল শিকদার, আওয়ামী লীগ নেতা বাবু ওরফে কালাই বাবু, মো. রাসেল, শাহীন মিয়া, জাহাঙ্গীর মোল্লা, মো. ওবায়দুর, মো. আলাউদ্দিন, মো. মিজান, রাজীব, মো. রানা, রিফাত ও ইমরান।

বাদীপক্ষের আইনজীবী ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, অমিত হাসান রূপগঞ্জে একটি ব্যাংকের নিরাপত্তাপ্রহরী হিসেবে কাজ করতেন। পাশাপাশি তিনি একটি ওয়ার্ডের ছাত্রদলের কমিটির সহসভাপতি ছিলেন। ৩ নভেম্বর সন্ধ্যার পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী জোবায়দা রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে রূপগঞ্জে ছাত্রদল মশালমিছিল বের করে। মিছিল থেকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসীরা অমিতকে তুলে নিয়ে মারধর করে চলন্ত ট্রাকের নিচে ফেলে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। অমিতের লাশের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, অমিতকে হত্যা করা হয়েছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী এ ঘটনায় থানায় মামলার আবেদন করলেও তা নেওয়া হয়নি। ফলে আদালতে মামলার আবেদন করা হয়েছে। বিচারক মামলার বাদী ও আইনজীবীর বক্তব্য শুনে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং এ বিষয়ে কোনো মামলা হয়েছে কি না, তা আগামী তিন দিনের মধ্যে যাচাই করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে আদেশ দিয়েছেন।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে মামলার বাদী আমির হোসেন বলেন, ‘হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের শাস্তি চাই।’ মামলার অভিযোগ প্রসঙ্গে ভুলতা যুবলীগের সভাপতি রাশেদ ভূঁইয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।