আজ মঙ্গলবার ভোরে বাড়ির অদূরে সড়কে দেখা হয় আনাই ও আনুচিংয়ের বাবা রিপ্রু মগের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘খুব আনন্দ লাগছে। বাংলাদেশ জিতেছে। এই দলে আমার দুই মেয়ে খেলেছে, এটা ভাবলেও মনের ভেতর আনন্দ লাগে। মেয়েদের খেলা ছিল দেখে গতকাল সোমবার তাড়াতাড়ি বাজার থেকে এসে টেলিভিশনের সামনে বসে ছিলাম। আমরা সবাই খুশি। মেয়েরা জেতার পর বাজারে গিয়ে মিষ্টি কিনে এনে সবাইকে চা-মিষ্টি খাইয়েছি।’ তিনি মেয়েদের জন্য সবার কাছে আশীর্বাদ চান।

আনাই ও আনুচিংয়ের জন্ম দুই মিনিটের ব্যবধানে। চার বোন ও তিন ভাইয়ের মধ্যে ছোট এই দুই বোন। একসময় দিনমজুর হিসেবে কাজ করা রিপ্রু মগ ও আপ্রুমা মগিনি এখন পাকা বাড়িতে থাকেন। ফুটবলে দুই মেয়ের কৃতিত্বে পরিবারে এসেছে সচ্ছলতা। যে ঘরে একসময় কুপি জ্বলত; সে ঘরে এখন টেলিভিশন চলে, সোলার প্যানেলের মাধ্যমে পানি তোলার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আনাই-আনুচিংয়ের মা আপ্রুমা মগিনি বলেন, ‘ছোট থেকে মেয়েদের ভালোমন্দ খাওয়াতে পারিনি। ভালো পরিবেশ দিতে পারিনি। অথচ এই দুই মেয়ের কল্যাণে আজ সুখে আছি, সমাদর পাচ্ছি। কোথাও গেলে লোকজন ডেকে মেয়েদের কথা জানতে চায়। এর চাইতে সুখের কী আছে!’

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস খাগড়াছড়িবাসী আনাই মগিনি, আনুচিং মগিনি, মনিকা চাকমা ও সহকারী কোচ কৃষ্ণা চাকমার জন্য এক লাখ টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে অভিনন্দন জানাই। খাগড়াছড়ি জেলার তিনজন খেলোয়াড় এই দলে প্রতিনিধিত্ব করেছে, এতে আমরা গর্বিত।’ এর আগেও আনাই, আনুচিং ও মনিকাকে দুই লাখ টাকা করে আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছিল জেলা প্রশাসন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন