হলের আসন দখল নিয়ে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০
ছাত্রদের আবাসিক হলের আসন দখল নিয়ে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ছাত্রদলের দুই পক্ষের দুই দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।
গতকাল সোমবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবদুল মালেক উকিল হল ও আজ মঙ্গলবার দুপুরে ক্যাম্পাসের একাধিক জায়গায় এ সংঘর্ষ হয়।
আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে তিনজনের নাম জানা গেছে। তাঁরা হলেন ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের শামিম হোসেন (২৪), ব্যবসা প্রশাসনের কায়েস হোসেন (২২), পরিসংখ্যান বিভাগের আনিছুর সিফাত (২২)। তাঁদের প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
দলীয় কর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে ক্যাম্পাসে সদ্য বিলুপ্ত হওয়া ছাত্রদলের কমিটির সভাপতি জাহিদ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেনের সঙ্গে কমিটির সহসভাপতি সাব্বির হোসেনের বিরোধ রয়েছে। এ নিয়ে এ দুই পক্ষের একাধিকবার বিতণ্ডাও হয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবদুল মালেক উকিল হলের ৪১৩ নম্বর কক্ষের একটি আসন খালি হয়েছে। এ আসন কোন পক্ষ দখলে নেবে, তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে বিরোধ দেখা দেয়।
এ আসন দখলের বিরোধের জেরে গতকাল রাতে হলের ভেতর ও ছাদে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনার জের ধরে আজ সকাল থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছিল। একপর্যায়ে দুপুরে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় ১৫ থেকে ২০ জনের একদল বহিরাগত তরুণ ও যুবক লাঠিসোঁটা নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকে।
এ সময় তাঁরা ভাষাশহীদ সালাম হল, আবদুল মালেক উকিল হল, গোলচত্বর ও অডিটোরিয়াম ভবনের সামনে কয়েকজনকে ধাওয়া ও মারধর করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম রাব্বানি, প্রক্টর এফ এম আরিফুর রহমানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। এ ঘটনায় বহিরাগত দুজনকে আটক করা হয়েছে। তবে তাঁরা কোন পক্ষের, তা জানা যায়নি।
এদিকে রাতে মারামারির ভিডিও ধারণ করার সময় দৈনিক মানবজমিনের প্রতিনিধি মাহী ছিদ্দীকী সিয়াম ও প্রতিদিনের সংবাদের প্রতিনিধি মেহেদী হাসানকে শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের কর্মীদের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে কয়েকজনের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে ভিডিও ফুটেজ ডিলিট করে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।
হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে সদ্য বিলুপ্ত বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘একটি অরাজনৈতিক ঘটনা নিয়ে ছাত্রদলের সহসভাপতি সাব্বির রহমান ও আনিসুর সিফাতের নেতৃত্বে একদল বহিরাগত আজ দুপুরে ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। পরে ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা তাদের ধাওয়া করে বের করেছে। এ সময় কয়েকজনকে ধরে প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। হামলায় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা–কর্মী আহত হয়েছেন।’
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহসভাপতি (সদ্য বিলুপ্ত) সাব্বির হোসেন বলেন, ‘গতকাল রাতে হলের একটি কক্ষের আসনে ছাত্রদল সভাপতি ও সম্পাদকের অনুসারীরা একজনকে ওঠানোর জন্য নিয়ে আসেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে তাঁর অনুসারী তিনজনকে মারধর করা হয়। আজ আবার তাঁর অনুসারীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।’
কক্ষ ভাঙচুর, তদন্তে কমিটি
এদিকে সংঘর্ষের এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আবদুল মালেক উকিল হলের দুটি কক্ষে ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আজ বিকেলে এ কমিটি করা হয়।
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এফ এম আরিফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছাত্রহলের সামান্য একটি বিষয় নিয়ে ছাত্রদের দুই পক্ষ বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে। খবর পেয়ে উপাচার্যসহ আমরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। এ ঘটনায় দুই পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
কমিটি বিলুপ্ত
এদিকে সংঘর্ষের পর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। আজ বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় সংগঠনটি। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম এ বিজ্ঞপ্তিতে সই করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংগঠনটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন বিলুপ্তের এ সিদ্ধান্তের অনুমোদন দিয়েছেন।