পতিত জমিতে ফুটেছে হাজারো সূর্যমুখী, মুগ্ধ দর্শনার্থীরা
একসময় অনাবাদি ছিল জমিটি। বর্ষায় জমে থাকত পানি, শুষ্ক মৌসুমে জন্মাত আগাছা। সেই পতিত জমিতে এখন সারি সারি সূর্যমুখী ফুল। এসব ফুলের বীজ থেকে তেল সংগ্রহের পর তা বিক্রি করেই এ বছর তিন লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন কৃষক শাহাদাত হোছাইন (৫১)।
শাহাদাতের বাড়ি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের সুফিনগর গ্রামে। একসময় তিনি এলাকায় তামাক চাষ করতেন। তবে তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করতে তাঁকে বিভিন্ন সময় প্রণোদনা দিয়ে আসছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। প্রণোদনার অংশ হিসেবে চলতি মৌসুমে পাওয়া কিছু সূর্যমুখী বীজ পতিত জমিটিতে বপন করেছিলেন তিনি।
আমাদের উপজেলায় এটিই সবচেয়ে বড় সূর্যমুখীর খেত। সময় পেলেই এখানে চলে আসি। মন ভালো হয়ে যায়। ফুলের সঙ্গে অনেক ছবি তুলেছি। গত সপ্তাহে পরিবারের সবাইকে নিয়ে এসেছিলাম।
শাহাদাত হোছাইনের বাড়ি থেকে সূর্যমুখী খেতটি প্রায় এক কিলোমিটার দূরে। জানতে চাইলে কৃষক শাহাদাত বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলা কৃষি কার্যালয় থেকে তিনি ২ কেজি বীজ ও ৮০ কেজি সার প্রণোদনা হিসেবে পান। কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে তিন মাস আগে বীজ বপন করেন। প্রণোদনা বাদে ৪০ শতক জমিতে চাষ করতে তাঁর প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
তিন লাখ টাকা আয় হতে পারে জানিয়ে শাহাদাত হোছাইন বলেন, ‘এই বাগানে প্রায় ২০ হাজার গাছ রয়েছে। আশা করছি ৮০০ লিটার তেল উৎপাদন হবে। প্রতি লিটার তেলের বাজারদর ৪০০ টাকা। সে হিসেবে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা বিক্রি হওয়ার কথা। আশা করছি ভালো লাভ হবে।’
শাহাদাতের সূর্যমুখী খেত এখন স্থানীয়দের বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বাতাসে দোল খাওয়া সূর্যমুখী ফুলের সৌন্দর্য উপভোগে প্রতিদিন সেখানে ভিড় করছেন স্থানীয় দর্শনার্থীরা। গত মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাগানে ফুলের মধু সংগ্রহে ভনভন করছে মৌমাছি। দর্শনার্থীদের অনেকেই সেখানে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, কেউ আবার ভিডিও ধারণ করছেন।
জানতে চাইলে ঘুরতে আসা তরুণ জাবেদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের উপজেলায় এটিই সবচেয়ে বড় সূর্যমুখীর খেত। সময় পেলেই এখানে চলে আসি। মন ভালো হয়ে যায়। ফুলের সঙ্গে অনেক ছবি তুলেছি। গত সপ্তাহে পরিবারের সবাইকে নিয়ে এসেছিলাম।’
নিজের সূর্যমুখী খেত দেখতে দর্শনার্থীদের আগ্রহে বেশ খুশি শাহাদাত হোছাইন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন বাগানে অনেক দর্শনার্থী আসেন। তাঁরা ভেতরে ঢুকে ছবি তোলেন। সড়কের পাশে হওয়ায় পথচারীদের কেউ কেউ হুট করে খেতে নেমে পড়েন। এতে কিছু গাছ নষ্ট হয়। কিছুটা ক্ষতি হলেও কাউকে বাধা দিই না। দর্শনার্থীদের আনন্দেই আমিও আনন্দ পাই।’
লোহাগাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাজী শফিউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘তেল উৎপাদনের লক্ষ্যে এ বছর প্রণোদনার মাধ্যমে লোহাগাড়ায় তিন একর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছে। ভোজ্যতেল হিসেবে সূর্যমুখী তেলের ভালো চাহিদা রয়েছে। এতে কৃষকেরা যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন, তেমনি এলাকার সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভবিষ্যতে সূর্যমুখীর চাষ আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।’