ফরিদপুরে সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয় নিয়ে নায়াব ইউসুফ, ‘ওখানে নাকি টাকা ভাগাভাগি হয়’

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় জেলার বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি-অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন ফরিদপুর–৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রেসক্লাবেছবি: প্রথম আলো

ফরিদপুর সদরে উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ের বিষয়ে বলতে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ। তিনি বলেছেন, ‘আমি শুনেছি, ওখানে নাকি টাকা ভাগাভাগি হয়।’

আজ শুক্রবার দুপুরে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিয়ের সময় এমন মন্তব্য করেন সংসদ সদস্য নায়াব ইউসুফ আহমেদ। এ ছাড়া বিভিন্ন খাতে দুর্নীতি-অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। শঙ্কা কাটিয়ে এসব বিষয় সাংবাদিকদের তুলে ধরার জন্য তিনি অনুরোধ জানান।

মতবিনিময়ের সময় নায়াব ইউসুফ আহমেদ বলেন, ‘আমি শুনেছি, এখানে জমি রেজিস্ট্রি হয়, সাবরেজিস্ট্রি অফিসে। আমি গতকাল শুনলাম, ওখানে যাঁরা চাকরি করেন, তাঁরা প্রান্তিক পর্যায়ের গরিব-দুঃখী মানুষের কাছ থেকে অনেক টাকা নিয়ে থাকেন। প্রতিদিন সেখানে হাজার হাজার জমি রেজিস্ট্রি হয়। যেখানে ২০০ টাকার নেওয়ার কথা, সেখানে বেশি টাকা নেওয়া হয় এবং এখানে এই টাকা নাকি ভাগাভাগি হয়। এটা খুব দুঃখের বিষয়।’

ফরিদপুরে অনেক উন্নয়ন হবে জানিয়ে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘কিন্তু প্রতিটা উন্নয়নে দেখি দুর্নীতি। আমার খুব কষ্ট লাগে। প্রতিটি ক্ষেত্রে, প্রতিটি সেক্টরে আমি দেখছি দুর্নীতি। আসলে এগুলো আমি সহ্য করতে পারি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘ফরিদপুরের বিএনপিতে এগুলো হবে না। আমি যত দিন আছি, আমার কাজ অন্যায়কে ন্যায়ে প্রতিস্থাপন করা। আমি একটি সুন্দর ফরিদপুর চাই। শান্তি ও নিরাপদ চাই; এখানে কেউ চাঁদাবাজি করবে না, সন্ত্রাস থাকবে না।’

মতবিনিময়ের সময় অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে সাংবাদিকদের তুলে ধরার আহ্বান জানান নায়াব ইউসুফ। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘একজন যোদ্ধার চেয়েও ক্ষমতা বেশি আপনাদের কলমে। অনেক অন্যায় আমি দেখছি ফরিদপুরের মাটিতে, কিন্তু সব সময় আমি সেটা জানি না। আপনাদের মাধ্যমে আমার জানার সুযোগ ছিল। গত ১২ ফেব্রুয়ারিতে যে দল ক্ষমতায় এসেছে এবং যে নেতা ফরিদপুরে নির্বাচিত হয়েছেন, আপনাদের শঙ্কা থাকার কথা নয়। আমিও যদি কোনো অন্যায় করি, সেটাও তুলে ধরবেন; যাতে আমিও শোধরাতে পারি।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী নায়াব ইউসুফ আহমেদ ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এই আসনে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবদুত তাওয়াব পান ১ লাখ ২৪ হাজার ১১৫ ভোট।

জামায়াতের প্রার্থী এত ভোট পাওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করে নায়াব ইউসুফ বলেন, ‘ফরিদপুরের বুকে একটা দল, যারা ধর্মের নামে গোঁড়ামি প্র্যাকটিস (চর্চা) করে। তারা (জায়ামাতে ইসলামী) কীভাবে এত ভোট পেল, আমি তো চিন্তাই করতে পারি না। ওই দল যদি কোনো ইসলামি দল হতো, ফরিদপুরের বুকে সবার আগে আমার পরিবার এই দল করত। আমাদের পরিবার এই দক্ষিণবঙ্গে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছে; আমার পরিবার না থাকলে আপনারা ইসলাম প্র্যাকটিস করতে পারতেন না ওইভাবে।’

জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে নায়াব ইউসুফ আরও বলেন, ‘ওরা ইসলামকে গোঁড়ামিতে পরিণত করেছে। ওই দল ইসলামি দল না; কিন্তু এত ভোট পেয়েছে, আমি তো অবাক। কেন পেয়েছে? দোষ আমাদের। আমরা এই ফরিদপুরের বুকে অন্যায় করেছি, চাঁদাবাজি করেছি, নিশ্চয় সে জন্য এত ভোট পেয়েছে। আমরা নিজেরা যত দিন না শোধরাব, তত দিন আমরা অপরকে বলতে পারব না। এই অন্যায়-অনাচার ফরিদপুরের মাটি থেকে আমি দূর করবই।’

এ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল ইসলাম। এ সময় ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সদস্য ফারিয়ান ইউসুফ আহমেদ, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহামুদুল হাসানসহ বিভিন্ন স্থানীয় সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।