দেশের সংবিধানে নির্বাচনের যে পদ্ধতি রয়েছে, সে অনুযায়ীই আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু। শুক্রবার বিকেলে সাভারের হেমায়েতপুরে ১৪ দলের উদ্যোগে এক জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপি-জামায়াত চক্র নিজেদের নাক কেটে গণমানুষের যাত্রা ভঙ্গ করতে চায় মন্তব্য করে ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন বলেন, তারা উন্নয়নের ধারা বিনষ্ট করতে চায়। মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায়। মানুষের ভোট ব্যবস্থা যুদ্ধে তাদের এ ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে। রাষ্ট্র পরিচালনার একমাত্র দিকনির্দেশনা হচ্ছে সংবিধান। সেই সংবিধানের ভিত্তিতে এ দেশে নির্বাচন পদ্ধতি যেভাবে রয়েছে, সেভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
বিএনপিকে ইঙ্গিত করে আমির হোসেন বলেন, ২০০৯ সালের পর থেকে নির্বাচনে তাদের ভয়, অনীহা। ২০১৩ ও ২০১৪ সালে অগ্নিসন্ত্রাস করে ৬০০ স্কুল পুড়িয়ে দিয়ে হাজার হাজার গাছ কেটে, রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে ভোট ব্যবস্থাকে বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিল তারা, যা মানুষের স্বতঃস্ফূর্ততার জন্য সম্ভব হয়নি। এবারও তারা দেড় বছর আগে থেকে বিভিন্ন সমাবেশের মাধ্যমে শুরু করেছে নির্বাচনের বিরুদ্ধে কথা বলছে। নির্বাচনকে বানচাল করতে চাইছে।
বিকেল চারটার দিকে হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আরিচাগামী লেন ঘেঁষে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সংসদ সদস্য বেনজীর আহমেদের সভাপতিত্বে এ জনসভা হয়। ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুনের সঞ্চালনায় জনসভায় বক্তব্য দেন ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস প্রমুখ।
বিএনপি-জামায়াতের সমালোচনা করে বক্তব্য দেন মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী। আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন যথাসময়ে সংবিধান মোতাবেক হবে। আমরা মাঠে খেলতে চাই, আমরা খালি মাঠে গোল দিতে চাই না।’
বক্তব্যে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন রাশেদ খান মেনন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘করোনার পরে এ দেশের মানুষ যখন ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল সেই সময় ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের ফলে জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে। দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে লড়াই করছে সরকার চেষ্টা করছে সব কিছু স্বাভাবিক করতে। জ্বালানি–সংকটের কারণে তীব্র লোডশেডিংয়ের সমস্যায় পড়েছি। কিন্তু মানুষ ধৈর্যহারা হয়নি, মানুষ ধৈর্য ধরেছে। কারণ, আওয়ামী সরকার উন্নয়ন করেছে, মানুষ তা জানে।’
এদিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আরিচাগামী লেন ঘেঁষে সমাবেশ করায় মহাসড়কে ওই পাশে তীব্র যানজটে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। বিষয়টিকে উল্লেখ করে জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘জনগণ কষ্ট করছে, ভোগান্তিতে পড়েছে। এখানে মিটিংয়ের জায়গা তৈরি করায় জনগণের কষ্ট হচ্ছে। আমরা জনগণের রাজনীতি করি, সারা রাস্তা জনগণের গালাগালি শুনতে শুনতে আসলাম। তারা মিটিংয়ের বিরুদ্ধে বলেনি, আমাদের বিরুদ্ধে বলেনি, আমাদের স্থান নির্বাচনে বিবেচনার বিরুদ্ধে বলেছে। জনগণের রাজনীতি করতে হলে জনগণের কথা ভাবতে হবে। যাঁরা ভোগান্তিতে আছেন, তাঁদের কাছে আমি মাফ চেয়ে নিচ্ছি, ভবিষ্যতে আমরা চেষ্টা করব যাতে কেউ ভোগান্তিতে না পড়ে।’
বক্তব্যে দেশের তিনটি সমস্যার কথা তুলে ধরেন জাসদ সভাপতি। তিনি বলেন, ‘একটা দেখি বাজার সিন্ডিকেটের কারণে নিত্যপণ্যের চড়া দাম। আরেকটা দেখি কারখানা আছে, লাইন আছে, বাল্ব আছে, কিন্তু লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত। আর তিন নম্বর হচ্ছে ডলার–সংকট। তবে আরও একটি সমস্যা হচ্ছে রাজনীতি সমস্যা। বিএনপি আগে ক্ষমতায় ছিল, তাদের হাতে কোনো জাদুর কাঠি নেই বাজার ঠিক করার, বিদ্যুৎ সংকট সমাধান, ডলার–সংকট সমাধান করার। শেখ হাসিনা সরকারই পারবে নির্বাচনের আগেই এগুলো ঠিক করতে।’