দ্বিতীয় স্ত্রীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় শ্যামনগরে এমপি গাজী নজরুলের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ

দ্বিতীয় স্ত্রীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সাতক্ষীরার সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের শাস্তির দাবিতে আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্যামনগরে বিক্ষোভ করে স্থানীয় লোকজনছবি: প্রথম আলো

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। সেখানে এই মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সংসদ সদস্যের শাস্তির দাবি জানানো হয়। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্যামনগর উপজেলা সদরের বাসস্ট্যান্ড মোড়ে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে এই কর্মসূচি হয়।

বিক্ষোভে শতাধিক মানুষ অংশ নেন। তাঁদের হাতে ছিল ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড। এ সময় গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। একপর্যায়ে খড় ও কাপড় দিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের প্রতীকী অবয়ব তৈরি করে ক্ষোভ জানানো হয়। পরে তাঁরা মিছিল আকারে বাসস্ট্যান্ড মোড় থেকে শুরু করে উপজেলা পরিষদ সড়ক ঘুরে শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে থামেন। সেখানে বিক্ষোভকারীরা প্রতীকী অবয়বটিতে আগুন দেন।

বিক্ষোভে অংশ নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘নাটক সাজিয়ে ওই তরুণীর ওপর অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি। নির্যাতনের মাত্রা সহ্যের বাইরে চলে যাওয়ার পরই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। এ ঘটনায় একটি তাজা প্রাণ চলে গেছে, আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমরা চাই, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হোক। এমন ব্যক্তিকে আমরা সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চাই না। আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি যদি ফাঁসি হয়, তাহলে তাঁর ফাঁসি চাই।’

বিক্ষোভে অংশ নিয়ে শ্যামনগরের ভুরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক তরুণীকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা ও প্রতিবাদ শুরু হয়। পরে বিয়ের মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি। তবে মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনাটি আমাদের কাছে স্বাভাবিক আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে না। তাঁকে হত্যা করে পরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আমাদের সন্দেহ আছে। তাই আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানাই।’

একপর্যায়ে খড় ও কাপড় দিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের প্রতীকী অবয়ব তৈরি করে ক্ষোভ জানান বিক্ষোভকারীরা
ছবি: প্রথম আলো

বিক্ষোভে জামায়াতে ইসলামীর একজন কর্মী পরিচয় দিয়ে নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘নির্বাচনের সময় আমি জামায়াতের হয়ে কাজ করেছি। আমি ঘোষিত কর্মী ছিলাম এবং গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত লোক হিসেবেও কাজ করেছি। তাঁর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এখন সামনে এসেছে, তাতে আমি তাঁকে মন থেকে ঘৃণা করি। মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা দরকার।’

গতকাল রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়েছে; সেটি মরিয়মের লেখা কি না, ফরেনসিক পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ গতকাল রাতে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। ওই মামলায় সংসদ সদস্য ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এর আগে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। পরে গাজী নজরুল জানান, ওই তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। এরপর জামায়াতে ইসলামী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে।