কাপড় শুকানোর রশি টানানো নিয়ে দ্বন্দ্ব, বাক্প্রতিবন্ধীকে পিটিয়ে হত্যা

জুয়েল আহমেদছবি: প্রথম আলো

ফরিদপুরে কাপড় শুকানোর রশি টানানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের জেরে এক বাক্প্রতিবন্ধীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। আজ শুক্রবার সকালে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জুয়েল আহমেদ (৪০) ফরিদপুর পৌরসভার গোয়ালচামট মহল্লার বাসিন্দা। এ ঘটনায় আহত তাঁর ভাই সোহেল আহমেদ (২৪) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয় লোকজন জানান, জুয়েলের প্রতিবেশী প্রবাসী আবুল কালাম আজাদের বাড়িতে সরফরাজ (৫৫) নামের এক ব্যক্তি তাঁর স্ত্রী মনি বেগম ও দুই ছেলে শাহরিয়ার (২২) ও রিফাতকে নিয়ে ভাড়া থাকেন। তিনি ওই ভাড়া বাসায় কাগজের ঠোঙা বানান ও সেসব বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাঁর সঙ্গে কামাল (১৮) ও মানিক (১৯) নামের দুজন কর্মচারী ঠোঙা বানানোর কাজ করেন। সরফরাজের গ্রামের বাড়ি রংপুরে।

জুয়েলের প্রতিবেশী জাহিদ আহমেদ জানান, আজ সকাল সাতটার দিকে সরফরাজের স্ত্রী মনি বেগম প্রতিবেশী জুয়েল আহমেদের বাড়ির সীমানায় কাপড় শুকানোর জন্য রশি টানাতে গেলে বাধা দেন জুয়েল। একপর্যায়ে জুয়েল মনি বেগমকে ধাক্কা দিলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। তাঁর চিৎকার শুনে সরফরাজ, তাঁর দুই ছেলে শাহরিয়ার ও রিফাত এবং দুই কর্মচারী কামাল ও মানিক লাঠি ও কাঠের বাটাম নিয়ে ধাওয়া দিলে জুয়েল ভয়ে বাড়িতে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। সরফরাজের নেতৃত্বে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে জুয়েল ও তাঁর ভাই সোহেলকে এলোপাতাড়ি পেটানো হয়। এ সময় মাথায় কাঠের বাটামের আঘাতে জুয়েল গুরুতর আহত হন। তাঁদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে সরফরাজরা পালিয়ে যান।

ঘটনাস্থলে আসা ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আসাদ বলেন, এলাকাবাসী আহত দুই ভাইকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জুয়েলকে মৃত ঘোষণা করেন।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় সরফরাজ ও তাঁর স্ত্রী মনি বেগমকে আটক করেছে পুলিশ। বাক্প্রতিবন্ধী জুয়েল আহমেদের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে আজ বিকেলে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।