জলাবদ্ধ সড়কে ধানের চারা রোপণ করে এলাকাবাসীর প্রতিবাদ

উন্নয়ন না হওয়ায় সড়কে ধানের চারা লাগিয়ে এলাকাবাসী প্রতিবাদ জানান। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের আরংশাইল-রাজারদীঘি সড়কেছবি: প্রথম আলো

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়কের উন্নয়ন না হওয়ায় সড়কে ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁদের অভিযোগ, বছরের পর বছর দুর্ভোগের মধ্যে চলাচল করলেও সড়কটির উন্নয়নে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের আরংশাইল–রাজারদীঘি সড়কের জলাবদ্ধ ও কাদাময় অংশে ধানের চারা রোপণ করেন গ্রামবাসী। এ সময় তাঁরা সড়কের বেহাল অবস্থার প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় এক কিলোমিটার।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মির্জাপুর ইউনিয়নের আরংশাইল, মাকরখোলা, রাজারদীঘিসহ আশপাশের অন্তত সাতটি গ্রামের মানুষের চলাচলের প্রধান পথ এটি। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির উন্নয়ন না হওয়ায় বর্ষাকালে দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। এ কারণে ব্যতিক্রমী এই প্রতিবাদের আয়োজন করেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো সড়ক কাদামাখা। কোথাও পায়ের গোড়ালি, কোথাও আবার হাঁটুসমান পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এমন অবস্থার মধ্যেই জরুরি প্রয়োজনে মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে।

মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ সূত্র জানায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সড়কটি পাকাকরণের জন্য উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের (এলজিইডি) মাধ্যমে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। তবে সরকার পতনের পর প্রকল্পটির অনুমোদন আর মেলেনি।

সড়কে জমেছে পানি ও কাদা। সোমবার দুপুরে মির্জাপুর ইউনিয়নের আরংশাইল-রাজারদীঘি সড়কে
ছবি: প্রথম আলো

আগে চলাচলের সুবিধার জন্য সড়কের কিছু অংশে ইট বিছানো হয়েছিল বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা লুৎফর রহমান। তাঁর ভাষ্য, ইট বিছানোর পরে মাটি বহনকারী ট্রাক চলাচলের কারণে ইট ভেঙে নষ্ট হয়ে যায়। প্রতিদিন অন্তত দুই থেকে আড়াই হাজার মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। কৃষকদের কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়ারও এটিই একমাত্র সড়ক।

আরংশাইল, মাকরখোলা ও রাজারদীঘি গ্রামের পাঁচজন কৃষক জানান, এই সড়ক ব্যবহার করে আশপাশের চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত করতে হয়। বর্ষাকালে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। কৃষকদের কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। আবার কাদার কারণে কোনো যানবাহন চলতে না পারায় অসুস্থ ব্যক্তিদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

সড়কে ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদের বিষয়টি শুনেছেন বলে প্রথম আলোকে জানান শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, সড়কটির উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে। চলতি মাসে উপজেলা পরিষদের সমন্বয় কমিটির সভায় জনগণের এই প্রতিবাদের বিষয়টি তিনি উপস্থাপন করবেন।