কলেজের শিক্ষক ও প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কলেজের মিলনায়তনে মিলাদ মাহফিলের অনুষ্ঠান শুরু হয়। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান খোন্দকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আ স ম কামরুল ইসলাম, কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুছ ছালেক প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের কলেজ কমিটির নেতারা তাঁদের তিনজন করে মোট ছয়জনকে বক্তব্য দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এ সময় শিক্ষকেরা দুই সংগঠনের একজন করে দুজনকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিতে পারবেন বলে জানান। পরে অনুষ্ঠান শুরু হলে শিক্ষকেরা দুই সংগঠনের একজন করে নেতাকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য মাইকে ডাকেন। কিন্তু তাঁদের কেউ যাননি।

বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের প্রস্তাব না মানায় তাঁরা ভাঙচুর চালান। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দেব।
আবদুল হান্নান, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, কুলাউড়া সরকারি কলেজ

অনুষ্ঠান শেষে শিরনি বিতরণ চলছিল। অতিথিরা অনুষ্ঠানস্থল থেকে বেরিয়ে শিক্ষক মিলনায়তনে চলে যান। এ সময় দুই সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অনুষ্ঠানের প্যান্ডেল, তোরণ ও চেয়ার ভাঙচুর শুরু করেন। এ সময় বাধা দিলে তাঁরা বদরুল ইসলাম ও জুনেল আহমদ নামের কলেজের দুই শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেন। এ পরিস্থিতিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে শিরনি ফেলে ছোটাছুটি শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে দুই সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কলেজ ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবদুল হান্নান সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে মুঠোফোনে প্রথম আলোক বলেন, ‘বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের প্রস্তাব না মানায় তাঁরা ভাঙচুর চালান। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দেব।’

কুলাউড়া থানার ওসি আবদুছ ছালেক মুঠোফোনে বলেন, মিলাদ মাহফিলে বক্তব্য না দেওয়াকে কেন্দ্র করে কিছু ছাত্র বিশৃঙ্খল পরিবেশের সৃষ্টি করেন। এ সময় তাঁরা ভাঙচুরও চালান। পুলিশ যাওয়ার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভাঙচুরের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কুলাউড়া কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক মৌসুম সরকার বলেন, কোনো ছাত্রসংগঠনকে বক্তব্য রাখার সুযোগ না দেওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ভাঙচুর চালান।

কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার বকস বলেন, তাঁরা কলেজের শিক্ষকদের সিদ্ধান্ত মেনে নেন। অন্য কাজ থাকায় অনুষ্ঠান শুরুর আগে তিনি চলে যান। পরে শুনেছেন ছাত্রলীগ নামধারী কে বা কারা অন্যান্য সংগঠনের সঙ্গে মিলে ভাঙচুর চালান।