গত শনিবার প্রথম আলোতে ‘পদকজয়ী সেই কৃষকেরা এখন নিঃস্ব’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়। সেটি দেখে আফজাল হোসেন এই প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি বলেন, মামলার পর ব্যাংক ব্যবস্থাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ব্যবস্থাপক বলেছিলেন, ঋণ শোধ করলে মামলা প্রত্যাহার করে নেবেন। এ জন্য তিনি বন্ধকি সম্পত্তি বেচে ও বিভিন্নভাবে টাকা সংগ্রহ করে সব পাওনা পরিশোধ করেন। ব্যাংক ২২ লাখ টাকার দাবিতে মামলা করেছিল। পরে সুদ, মামলার খরচসহ তাঁর কাছ থেকে ২৯ লাখ ৯১ হাজার টাকা আদায় করা হয়। ব্যাংকের ব্যবস্থাপক ওই টাকা আদালতের মাধ্যমে না নিয়ে সরাসরি ব্যাংকে জমা নেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রহনপুর সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ে তাঁকে বন্ধকি দায়মুক্তি দলিল নিবন্ধন করে দেয়। কিন্তু এখনো মামলা প্রত্যাহার করেনি। এ কারণে তিনি বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। পরিবার নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

এখন চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালতে দুটি মামলার হাজিরা দিতে গেলেই ৬ লাখ ৭৬ হাজার ১০০ টাকা জমা দিতে হবে। আফজাল হোসেন এই টাকা জোগাড় করতে পারছেন না।

ব্যাংকের দায়ের করা চারটি মামলার মধ্যে দুটি হাইকোর্টে চলে গেছে। চারটি মামলাতেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এখন চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালতে দুটি মামলার হাজিরা দিতে গেলেই ৬ লাখ ৭৬ হাজার ১০০ টাকা জমা দিতে হবে। আফজাল হোসেন বলেন, তিনি এই টাকা জোগাড় করতে পারছেন না। ব্যাংক মামলা প্রত্যাহার করে নিলেই সব মিটে যায়, কিন্তু তারা তা করছে না। বাধ্য হয়ে এখন তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। তাঁর খামার শেষ। নিজের কেনা চার বিঘা জমিই বিক্রি করতে হয়েছে। ৫০০ বিঘার জায়গায় মাত্র ২০ বিঘার খামার আছে। তা–ও দেখার কেউ নেই।

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ইসলামী ব্যাংক রহনপুর শাখার ব্যবস্থাপক সোলায়মান আলী প্রথম আলোকে বলেন, কৃষককেই টাকা জমা দিয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। তাহলে তাঁরা আদালতকে বলবেন, সব পাওনা বুঝে পেয়েছেন। আদালতে জমা দেওয়া টাকা কৃষক পরে ফেরত পাবেন। মামলা প্রত্যাহারের আশ্বাসের ব্যাপারে তিনি বলেন, এখন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। আদালত অবমাননা হয়েছে। এখন তাঁকে আদালতে যেতেই হবে।

কৃষক ঋণ শোধ করে দিয়েছেন। এখন আদালতে টাকা জমা দিতে হলে ব্যাংক ব্যবস্থাপক দিক।
এ কে এম গালিব খান, জেলা প্রশাসক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

আফজাল হোসেন উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। ২০০৮ সালে ‘এবি কৃষি খামার’ শুরু করেন। ১৮০ বিঘা জমি ইজারা নিয়ে তিনি আম, পেয়ারা ও মাছ চাষ শুরু করেন। লাভের টাকা দিয়ে চার বিঘা জমি কেনেন। ২০১৪ সাল পর্যন্ত তাঁর খামার ভালোই ছিল। ২০১৫ সালে ঋণ নেন। বার্ষিক সুদ ছিল ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এক বছর দেওয়ার পর তিনি আর সুদের কিস্তি দিতে পারেননি। আফজাল বলেন, সে সময় ফরমালিনের উপস্থিতির অভিযোগে আমের বাজারে ধস নামে। ২০১৭ সালে শিলাবৃষ্টির কারণে আম শেষ হয়ে যায়। এ অবস্থায় ব্যাংকের মামলায় ২০১৯ সালের ১৭ আগস্ট তিনি গ্রেপ্তার হন। ছয় মাস হাজতে থাকেন। বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে অর্ধেক টাকা জোগাড় করে আদালতে জমা দিয়ে তিনি জামিন পান।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিব খান প্রথম আলোকে বলেন, কৃষক ঋণ শোধ করে দিয়েছেন। এখন আদালতে টাকা জমা দিতে হলে ব্যাংক ব্যবস্থাপক দিক। তিনি ওই কৃষককে সহযোগিতা করতে গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। বিষয়টির দ্রুতই সমাধান হবে।