টেকনাফে মাদকবিরোধী অভিযানে র্যাবের ওপর হামলা, আহত ৯
কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় র্যাবের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে র্যাবের অন্তত ৯ সদস্য আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা দুটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়। আজ বুধবার রাতে আটটার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়া ফুটবল মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ফরিদুল আলম ওরফে মেহেদী হাসান নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তিনি নাজিরপাড়া এলাকার সিদ্দিক আহমেদের ছেলে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বুধবার রাত ১২টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানের সময় র্যাব সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং দুটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও কোস্টগার্ড সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আটক ফরিদুলকে এখনো পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। র্যাব লিখিত অভিযোগ দিলে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
র্যাব-১৫ টেকনাফ সিপিসি-১–এর স্কোয়াড কমান্ডার সোহেল রানা বলেন, নাজিরপাড়া এলাকায় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর সময় একদল ব্যক্তি র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায় এবং র্যাবের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে আগুন দেয়। এতে অন্তত ৯ সদস্য আহত হন। আহত র্যাব সদস্যদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সোহেল রানা আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ফরিদুল আলম নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক, হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বিকেলে নাজিরপাড়া ফুটবল মাঠে স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত একটি ইফতার মাহফিল চলছিল। সেখানে উপস্থিত সদর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ফরিদ আলমকে র্যাব সদস্যরা আটক করলে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে কিছু লোক র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায় এবং মোটরসাইকেলে আগুন দেয়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক দেবাশীষ সরকার বলেন, আহত অবস্থায় র্যাবের সাত সদস্যকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে আটক ফরিদ আলমের বাবা সিদ্দিক আহমদ দাবি করেন, ইফতার মাহফিল চলাকালে সাদাপোশাকে ১০–১৫ জন র্যাব সদস্য হঠাৎ এসে সভাস্থল ঘিরে ফেলেন। এতে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তাঁর দাবি, তাঁরা কোনো যানবাহনে আগুন দেননি এবং তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে কোনো মামলায় পরোয়ানাও নেই।