মামলায় নিহত কিশোরীর সহপাঠী রায়হান, তার বন্ধু রিফাত হোসেন (২৬) ও হোটেলের ব্যবস্থাপক ইমনকে আসামি করা হয়। পুলিশ লাশ উদ্ধারের সময় রায়হান, রিফাত, ইমন ও নিহত কিশোরীর অন্য সহপাঠীকে আটক করেছিল। মামলার পর তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। অন্য কিশোরী পুলিশের হেফাজতে আছে।

পুলিশ জানায়, রোববার বিকেলে স্বামী–স্ত্রী পরিচয় দিয়ে কুয়াকাটার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হোটেল রোজ গার্ডেনের দুটি কক্ষ ভাড়া নেয় তারা। হোটেলের ডি-৩ কক্ষে রায়হান ও নিহত কিশোরী এবং ডি-২ কক্ষে রিফাত ও অন্য কিশোরী ছিল। গতকাল সকালে নিহত কিশোরীর সঙ্গে রায়হানের কথা–কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি হয়। রাত সাড়ে আটটার দিকে হোটেলের কক্ষ থেকে ওই কিশোরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।

ভেদরগঞ্জ পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, কুয়াকাটায় হোটেল থেকে যে কিশোরীর লাশ উদ্ধার হয়েছে, সে তাঁর বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী। তার সঙ্গে আরও দুই পরীক্ষার্থী কুয়াকাটায় যায়। তারা কেন ও কী উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছিল বা মেয়েটি কীভাবে মারা গেল, তা তাঁরা বুঝতে পারছেন না।

ওই কিশোরীর নানা অভিযোগ করে বলেন, রায়হান অপহরণ করে তাঁর নাতনিকে কুয়াকাটায় নিয়ে গেছে। তাঁদের ধারণা, সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। তিনি রায়হান ও তার সহযোগীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।

রায়হানের বাবা উজ্জ্বল খান প্রথম আলোকে বলেন, নিহত কিশোরীর সঙ্গে রায়হানের সম্পর্কের খবর তাঁরা জানতেন। কিন্তু তাদের কুয়াকাটায় যাওয়ার ব্যাপারে কিছুই জানতেন না। বন্ধুর ভাইয়ের বিয়ের কথা বলে সে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। কুয়াকাটায় কী ঘটেছে, তা তাঁরা কিছুই জানেন না।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মোহাম্মদ আবুল খায়ের প্রথম আলোকে বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ওই কিশোরীর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। সে ধর্ষণের শিকার হয়েছে কি না, সেটিও চিকিৎসক পরীক্ষা–নিরীক্ষা করবেন। ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর নিহত কিশোরীর বান্ধবীকে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তার স্বজনেরা এলে তাঁদের জিম্মায় দেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন