টানা তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত কুড়িগ্রামের জনজীবন, গরমে গলছে সড়কের পিচ
কুড়িগ্রামে তাপপ্রবাহে সৃষ্ট ভ্যাপসা গরমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলেও উচ্চ আর্দ্রতার কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞেরা।
তাপপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক ও রিকশাচালকদের মতো খেটে খাওয়া মানুষ। জেলার বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত গরমে সড়কের পিচ নরম হয়ে উঠে আসার ঘটনাও ঘটেছে।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্যানুযায়ী, গত ২৯ মে থেকে জেলায় তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ২৯ মে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরদিন তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫ দশমিক ৭ ডিগ্রিতে। ৩১ মে এবং আজ সোমবার সর্বোচ্চ ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দুপুরের পর শহর ও গ্রামের রাস্তাঘাট অনেকটাই ফাঁকা। প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। তীব্র রোদ ও গরম বাতাসে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও কোথাও সড়কের পিচ নরম হয়ে উঠে আসায় যানবাহন চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে।
সরেজমিনে সোমবার দুপুরে উলিপুর উপজেলার আনন্দবাজার এলাকায় দেখা যায়, কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কের পিচ গলে গেছে। গলে যাওয়া পিচে রিকশা ও অটোরিকশার চাকা আটকে যাচ্ছে।
উলিপুর উপজেলার আনন্দবাজার এলাকার রিকশাচালক জোবাইদুল ইসলাম জানান, দুপুরের পর থেকে রোদে রাস্তায় চোখ মেলে তাকানোই কঠিন হয়েছে। এত গরমে রিকশা চালানো খুবই কষ্টের।
সদর উপজেলার পাঁচপীর এলাকার কৃষক সেকেন্দার আলী বলেন, কয়েক দিন ধরে রোদের তাপে মাঠে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বারবার পানি পান করলেও পিপাসা মেটে না। কিছুক্ষণ কাজ করলেই মাথা ঝিমঝিম করে, বারবার বিশ্রাম নিতে হচ্ছে।
অতিরিক্ত গরমে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন স্বপন কুমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, এ সময় হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ ছাড়া আবহাওয়ার প্রভাবে জ্বর, সর্দি, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন তাপজনিত রোগ দেখা দিতে পারে। তাই বেশি করে পানি ও তরল খাবার গ্রহণ করতে হবে। খুব প্রয়োজন ছাড়া দুপুরের সময় বাইরে না যাওয়াই ভালো।
আগামী কয়েক দিন কুড়িগ্রামের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানান রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার। তিনি বলেন, ৪ ও ৫ জুনের মধ্যে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে।