বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গাছ কাটার বিরুদ্ধে সাবেক শিক্ষার্থীর প্রতিবাদ, স্মারকলিপি প্রদান

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গাছ কাটার প্রতিবাদ জানিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে রংপুর প্রেসক্লাবের সামনেছবি: প্রথম আলো

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গাছ কাটার প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে ‘নির্বিচার গাছ হত্যার বিচার চাই’ প্ল্যাকার্ড হাতে তিনি ঘণ্টাখানেক অবস্থান নেন। এ ছাড়া এ ঘটনার তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আজ দুপুরে শিক্ষার্থীরা বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন।

সাইফুল ইসলাম কারমাইকেল কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক। নিজের দায় থেকে ব্যতিক্রমী এ কর্মসূচিতে দাঁড়িয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘২০০৮ সালে আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই, সেখানে বালু আর বালু ছিল, কয়েকটি ভবন ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মিলে অসংখ্য গাছ রোপণ করেছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা নির্বিচার প্রায় ১০০ গাছ হত্যা করেছে। আমি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অত্যন্ত মর্মাহত ও ব্যথিত হয়েছি। যাঁরা এ ধরনের গাছ হত্যার সঙ্গে জড়িত, তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করছি।’

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গতকাল বুধবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঈদগাহ মাঠ করার নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনের বিভিন্ন প্রজাতির বেশ কিছু গাছ কেটে ফেলে। শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে দুপুরে গাছ কাটা বন্ধ হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফেরদৌস রহমান দাবি করেন, নির্বিচার নয়, গাছ ঘন হওয়ায় ও ঈদগাহ মাঠ করার প্রয়োজনে কিছু গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।

এদিকে দ্বিতীয় দিনের মতো প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আজ দুপুরে ক্যাম্পাসে গাছ নিধনের ঘটনায় সরেজমিন তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. নূরুল ইসলামের কাছে স্মারকলিপি দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ও পরিবেশবিষয়ক সংগঠন ‘গ্রিন ভয়েস’।

স্মারকলিপিতে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো গাছ কাটার ঘটনাটি সরেজমিন তদন্ত করে প্রকৃত কারণ ও দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণ, তদন্তের ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশ ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ, ভবিষ্যতে গাছ কাটার আগে পরিবেশগত মূল্যায়ন ও বিশেষজ্ঞ মতামত নিশ্চিতকরণ, কাটা গাছের সমপরিমাণ বা তার বেশি গাছ পুনরায় রোপণের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্যাম্পাসের সবুজ পরিবেশ সংরক্ষণে একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন।

এ বিষয়ে রংপুরের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. নূরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, যেকোনো গাছ কাটতে হলে পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির অনুমোদন নিতে হবে। কিন্তু গাছ কাটার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁদের কিছু জানায়নি। শিক্ষার্থীরা এ নিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন। এ বিষয়ে তাঁরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন।