মিশফাক আহমদ চৌধুরী

সিলেট নগরের কিনব্রিজ-সংলগ্ন এলাকায় ৩৯ শতাংশ জায়গাজুড়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল সারদা স্মৃতি ভবন। এটি সারদা হল নামে পরিচিত। ১৯৩৬ সালের ২০ জানুয়ারি মিলনায়তনের উদ্বোধন করা হয়। স্বদেশি আন্দোলনের নেতা সারদাচরণ শ্যামের স্মৃতি রক্ষার্থে তাঁর ছোট ভাই বিমলাচরণ শ্যাম মিলনায়তনটি স্থাপন করেন। এর পর থেকে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মুখর থাকত এটি। আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে মিলনায়তনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

মূল অবকাঠামো ঠিক রেখে ২০০৬ সালে এটি সংস্কার করা হলেও কয়েক বছর পর আবার তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সংস্কৃতিকর্মীরা মিলনায়তনটি সংস্কারের দাবিতে প্রতিবাদী কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রথম আলো কথা বলেছে সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের সভাপতি মিশফাক আহমদ চৌধুরীর সঙ্গে।

প্রথম আলো: ঐতিহ্যবাহী সারদা স্মৃতি ভবন সংস্কৃতিচর্চার জন্য খুলে দেওয়ার দাবিতে আপনারা প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন। এর প্রেক্ষাপট যদি বলতেন।

মিশফাক আহমদ চৌধুরী: দীর্ঘদিন ধরে সিলেটের সংস্কৃতিকর্মীরা সারদা স্মৃতি ভবন সংস্কার করে সংস্কৃতিচর্চার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের কাছে। তবে কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় আমরা সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের দৃষ্টিতে বিষয়টি আনার জন্য কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছি। কাল মঙ্গলবার বিকেল চারটায় সারদা স্মৃতি ভবন প্রাঙ্গণে আমাদের প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেট এই কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। দ্রুত ঐতিহ্যবাহী সারদা স্মৃতি ভবন চালু করে দেওয়া হোক।

প্রথম আলো: ভবনটি পুনঃসংস্কার করে পুরো এলাকা নিয়ে সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণের দাবি বিভিন্ন সময়ে আপনারা জানিয়েছেন। এখনো কি একই দাবিতে অনড়?

মিশফাক আহমদ চৌধুরী: নিশ্চয়ই। কারণ, সারদা স্মৃতি ভবনের আশপাশে কিনব্রিজ, আলী আমজদের ঘড়ি, চাঁদনীঘাটের সিঁড়ি, পীর হবিবুর রহমান পাঠাগার, সার্কিট হাউস ও জালালাবাদ পার্কের অবস্থান। পাশ ঘেঁষেই সুরমা নদী প্রবাহিত হচ্ছে। আমরা চাই, ঐতিহ্যবাহী এসব স্থানকে কেন্দ্র করে একটি সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স গড়ে উঠুক।
প্রথম আলো: রেড ক্রিসেন্ট ও সিটি করপোরেশনের দুটি ভবনও তো সারদা স্মৃতি ভবন এলাকায় তৈরি হয়েছে। এসব ভবন অপসারণ, নাকি রেখেই সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স চাইছেন আপনারা?
মিশফাক আহমদ চৌধুরী: সংস্কৃতিকর্মীরা অনেক আগে থেকেই দাবি জানিয়ে আসছেন, সারদা স্মৃতি ভবন এলাকার সব জঞ্জাল সরিয়ে স্থানটি পুরোনো রূপে ফিরিয়ে নিয়ে দৃষ্টিনন্দন করা হোক।

প্রথম আলো: সিটি করপোরেশন সারদা স্মৃতি ভবনকে পাঠাগার হিসেবে ব্যবহার করছে। এ ছাড়া ভবনের সামনের অংশ পার্কিং জোন হিসেবেও ব্যবহার করছে...

মিশফাক আহমদ চৌধুরী: সারদা স্মৃতি ভবনের পাশেই একটা বহুতল ভবন আছে। সেখানেই মূলত সিটি কর্তৃপক্ষ পরিচালিত পীর হবিবুর রহমান পাঠাগারের অবস্থান ছিল। তবে সুরম্য নগর ভবন নির্মাণের সময় সারদা স্মৃতি ভবনের পাশে অবস্থিত বহুতল ভবনে সিটি করপোরেশনের কার্যালয়গুলো স্থানান্তর করা হয়েছিল। তখন পীর হবিবুর রহমান পাঠাগারের বইগুলো সাময়িকভাবে সারদা স্মৃতি ভবনে রাখা হয়েছিল। নগর ভবন নির্মাণ অনেক আগেই শেষ হয়েছে এবং ওই ভবনে কয়েক বছর আগে সিটি করপোরেশন নিজেদের কার্যক্রমও শুরু করেছে। অথচ সারদা স্মৃতি ভবন থেকে বইগুলো সরিয়ে আগের পাঠাগারের স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়নি। আমরা চাই, বইগুলো আগের স্থানে নিয়ে যাওয়া হোক। এ ছাড়া সারদা স্মৃতি ভবনের সামনের উন্মুক্ত জায়গা থেকে পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও সরানোর জোর দাবি জানাচ্ছি।

প্রথম আলো: সারদা স্মৃতি ভবন কীভাবে সংরক্ষণ করা যেতে পারে?

মিশফাক আহমদ চৌধুরী: সারদা স্মৃতি ভবনটি আগের মতো রেখে সংস্কার করা যেতে পারে। ভবনটিকে সংস্কৃতি ও পর্যটনবান্ধব করে আগের ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক রূপ ফিরিয়ে দেওয়া হোক। অতীতের মতো সারদা স্মৃতি ভবনকেন্দ্রিক সংস্কৃতিচর্চা শুরু হলেই আবার স্থানটি মুখর হয়ে উঠবে। এভাবেই ভবনটি পরবর্তী প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্যের স্মারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হবে।