আজ বুধবার দুপুরে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে শ্যামবাজার ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শ্যামবাজার ঘাটে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ভেড়ানো তিনটি বড় দেশীয় ট্রলার ও নৌকায় রাখা হয়েছে শত শত ছোট-বড় সরস্বতী প্রতিমা। এসব নৌকা থেকে ঢাকাসহ তার আশপাশ অঞ্চল থেকে হিন্দুধর্মাবলম্বীরা সরস্বতীপূজা উপলক্ষে পছন্দমতো প্রতিমা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

পুরান ঢাকার শাঁখারী বাজার থেকে আসা শিক্ষার্থী অঙ্কিতা ও তার ভাই সৌম্য এসেছে সরস্বতী প্রতিমা কিনতে। তাঁর বাবা পাপ্পু সাহা বলেন, ‘প্রতিবছর বুড়িগঙ্গা শ্যামবাজার হাট থেকে সরস্বতী প্রতিমা কিনতে আসি। এ বছর প্রতিমা কিনেছি ১ হাজার ৪০০ টাকা দিয়ে। গত বছর এমন প্রতিমা ৯০০ টাকায় কিনেছিলাম। এবার দাম একটু বেশি নিয়েছে।’

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর এলাকা থেকে আসা প্রতিমা বিক্রেতা ঝন্টু পাল (৫৫) প্রায় ২৮ বছর ধরে সদরঘাট এলাকায় প্রতিবছর সরস্বতী প্রতিমা বিক্রি করতে আসেন। তিনি বলেন, ‘গত রোববার বিকেলে গয়নার নৌকা নিয়ে শ্যামবাজারে এসেছি। এ বছর আড়াই শতাধিক প্রতিমা তৈরি করে বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছি। প্রতিবছর আশ্বিন মাসের শেষের দিক থেকে আমি ও তিনজন কারিগর সরস্বতী প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করি। বড় প্রতিমার দাম ১৫ হাজার টাকা আর ছোট প্রতিমার সর্বনিম্ন দাম ৮০০ টাকা। এ বছর জিনিসপত্রের দাম বাড়াতে বিক্রি কম হচ্ছে।’

অপর প্রতিমা বিক্রেতা অজয় পাল বলেন, ‘আমরা প্রতিবছর চার-পাঁচটি বড় গয়না নৌকা দিয়ে প্রতিমা বিক্রি করতে আসি। তিন দিন আগে শ্যামবাজার ঘাটে এসেছি। তেমন বিক্রি হয়নি। তিন দিনে মাত্র ৮৫টি প্রতিমা বিক্রি করেছি। প্রায় ৬ মাস ধরে ২৩০টি ছোট-বড় প্রতিমা তৈরি করেছি। এগুলো বিক্রির জন্য বড় ট্রলার নিয়ে এখানে এসেছি। জিনিসপত্রের দাম বাড়ার কারণে এ বছর বাজার ভালো না। তেমন বিক্রি হয়নি।’

কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিনয় সরকার বলেন, করোনার কারণে গত দুই বছর বিদ্যালয়ে সরস্বতীপূজা উদ্‌যাপন করতে পারেননি। এ বছর শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিদ্যালয় চত্বরে পূজা করা হবে। এ জন্য ২ হাজার ২০০ টাকা দিয়ে একটি সরস্বতী প্রতিমা কেনা হয়েছে।

রাজধানীর ফার্মগেট থেকে আসা এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দেবাশীষ রায় বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে বুড়িগঙ্গার তীরে প্রতিমা হাটে নৌকা থেকে সরস্বতী প্রতিমা কিনে নিয়ে যাই। এবার আমাদের ক্যাম্পাসে পূজার জন্য প্রতিমা কিনতে এসেছি। এবার ১৬ হাজার টাক দিয়ে কিনেছি।’