কন্যাশিশু দিবসের অনুষ্ঠানে এল বাল্যবিবাহের খবর, কনের বাবাকে জরিমানা

বাল্যবিবাহপ্রতীকী ছবি

উপজেলা পরিষদের হলরুমে চলছিল জাতীয় কন্যাশিশু দিবস নিয়ে আলোচনা। এর মধ্যেই খবর আসে, সপ্তম শ্রেণিপড়ুয়া এক ছাত্রীর বিয়ের আয়োজন চলছে। দ্রুত অনুষ্ঠান শেষ করে সেই বাড়িতে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, গতকাল রোববার রাতেই ভুয়া জন্মনিবন্ধন সনদ দিয়ে বিয়ের নিবন্ধন করা হয়েছে। এমন ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে।

ওই অবস্থায় কনের বাবাকে ৪ হাজার টাকা জরিমানা এবং ১৮ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত স্বামীর ঘরে মেয়েকে পাঠানো হবে না মর্মে মুচলেকা নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বাল্যবিবাহের শিকার মেয়েটি সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী (১৪)। তাঁর বাবা পেশায় দিনমজুর এবং মা মানসিকভাবে অসুস্থ। ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভার নয়াশিমুল গ্রামের বাসিন্দা এক পোশাকশ্রমিকের সঙ্গে মেয়েটির বিয়ের সম্বন্ধ করা হয়। আজ সোমবার মেয়েকে তার স্বামীর ঘরে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। উপজেলা পরিষদে জাতীয় কন্যাশিশু দিবসের অনুষ্ঠান চলাকালে বাল্যবিবাহের আয়োজনের খবর পায় প্রশাসন। পরে সেখানে যান ইউএনও সানজিদা রহমান ও উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমাতুজ্জহুরা।

অভিযানের সময় মেয়েটির পরিবার জানায়, গতকাল পৌরসভার স্থানীয় কাজি (নিবন্ধক) ওবাদুল্লাহর মাধ্যমে দুই লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে বিয়ের কাবিন সম্পন্ন হয়। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে ৪ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান ও আদায় করা হয়। একই সঙ্গে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা বন্ধ রাখতে এবং বরপক্ষকে বিয়েবাড়িতে আসতে না দিতে মেয়ের বাবাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বাল্যবিবাহ নিবন্ধনের বিষয়ে জানতে কাজি ওবাদুল্লাহর মুঠোফোনে কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে বাল্যবিবাহের আয়োজনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ইউএনও সানজিদা রহমান। আজ সোমবার দুপুরে
ছবি : প্রথম আলো

ইউএনও সানজিদা রহমান বলেন, সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই ছাত্রীর জন্মনিবন্ধন সনদে বয়স ১৮ বছর দেখানো হয়েছে। খোঁজ নিয়ে সেটি ভুয়া বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবাকে জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবারের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে যাতে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে মেয়েটিকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠানো না হয়।

ইউএনও আরও বলেন, বিয়ের নিবন্ধনকারী কাজিকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিয়ের নিবন্ধন বাতিলের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।