দুই ঘণ্টার মধ্যে ওসিকে চেয়ার থেকে সরিয়েছি, সেনাবাহিনীর মেজরকে চেইঞ্জ করছি : এমপি মাসুদ

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সূর্য্যমনি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম (মাসুদ)ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া

পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) শফিকুল ইসলামের (মাসুদ) বক্তব্যের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এতে তিনি বলেছেন, ‘দুই ঘণ্টার মধ্যে ওসিকে চেয়ার থেকে সরিয়েছি, দুই ঘণ্টার মধ্যে সেনাবাহিনীর মেজরকে চেইঞ্জ করছি এখান থেকে। অনেকে বলে, “ভোটে এমপি হইছেন।” আমি বলি, খালি ভোটে এমপি হই নাই, পাওয়ারেও এমপি হইছি। পাওয়ার দেখাইতে আসবেন না। পাওয়ার দেখাইবে পাঁচ লক্ষ মানুষ।’

গত শনিবার দুপুরে বাউফল উপজেলার সূর্যমণি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম। ওই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মজিবর রহমান (বাচ্চু)। সংসদ সদস্যের ওই বক্তব্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে নিজের সম্পর্কে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ফাইজলামি করেন মিয়া। শফিকুল ইসলাম মাসুদ কী জিনিস, এইটা বাউফলের মানুষকে দেখানোর দরকার নাই; শেখ হাসিনার কাছে জাইনা নিয়েন। শেখ হাসিনার কাছে জিজ্ঞেস কইরা দেইখা নিয়েন, শফিকুল ইসলাম মাসুদ কী জিনিস। শফিকুল ইসলাম কী জিনিস, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জাইনেন, ওখানকার সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসীর কাছে জিজ্ঞেস কইরেন, শফিকুল ইসলাম মাসুদ কী জিনিস।’ তিনি আরও বলেন, ‘উল্টাপাল্টা কথা বইলা মটকা (মাথা) গরম করবেন না। মটকা গরম করলে সামলাইতে পারবেন না। এখন আবার নতুন আরেক গান শুরু করছেন, ভালো মানুষের খাওন নাই। কী একটা অসভ্য দেশে, কী একটা জাহেল, কী একটা মূর্খ। ভালো মানুষের খাওয়া আছে, খাওয়া থাকবে। ওই বাউফল না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে। বেশি বললে সামলাইতে পারবেন না।’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শেখ হাসিনা উন্নয়ন তো কম করে নাই, তারপরও পালানো লাগছে কেন? উন্নয়ন করে যদি টিকে থাকতে পারত, তাহলে বাংলাদেশে একমাত্র শেখ হাসিনার টিকে থাকার কথা। কিন্তু পারে নাই কেন? রাস্তা দিছে, ঘাট দিছে, সেতু দিছে—এইটা করছে, ওইটা করছে, কিন্তু মানুষের মনে কোনো আনন্দ ছিল না। মানুষের অধিকার ছিল না। জনগণের অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করা সম্ভব নয়।’

এই বিষয়ে জানতে আজ সোমবার বেলা তিনটার দিকে ফোন করা হলে শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার মরহুম বাবা ও শ্বশুর এবং স্ত্রীকে নিয়ে যেভাবে মিথ্যা ও অশালীন কথাবার্তা সামাজিক যোগাযোগে প্রচার করা হচ্ছে, তা কোনো সুস্থ মানুষের পক্ষে মেনে নেওয়া খুবই কঠিন। তাদের উদ্দেশ্য করেই কিছু কথা বলেছি। তবে অনেক ভালো কথাও বলেছি, তা–ও প্রচার করা উচিত।’