রংপুরে চারজনকে হত্যার মামলাটি থানা থেকে ডিবিতে হস্তান্তর

রংপুরে হত্যার শিকার একই পরিবারের চারজন—গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী। পারিবারিক ছবিটি এখন শুধুই স্মৃতিছবি: সংগৃহীত

রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার মামলাটি থানা থেকে পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে। অধিকতর তদন্ত করে অভিযোগপত্র দেওয়ার লক্ষ্যে এ পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রংপুর মহানগর ডিবি পুলিশের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী আজ মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আরও পড়ুন

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রংপুর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় জেলার ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে মামলার নথিপত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত নতুন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেন।

মামলাটির নতুন তদন্ত কর্মকর্তা করা হয়েছে ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলীকে। পরে পুরোনো ও নতুন তদন্ত কর্মকর্তা দুজনই মাছুয়াপাড়ায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি পরিদর্শন করেন। এ সময় আগের তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল ও মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে নতুন তদন্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করেন।

ডিবির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, মামলাটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্তের জন্য ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। রংপুরের পুলিশ কমিশনার সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার যে বর্ণনা দিয়েছেন, তার সঙ্গে আসামিদের আদালতে দেওয়া জবানবন্দির মিল আছে। তবে কিছু বিষয়ে আসামিরা নতুন তথ্যও দিয়েছেন।

আরও পড়ুন

গত শনিবার রাতে মাছুয়াপাড়ার বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর (১২) লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বলছে, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গত রোববার ভোরে মাছু্য়াপাড়ার মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামের দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার আবদুল মাবুদ দাবি করেন, বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। রোববার গভীর রাতে দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

আরও পড়ুন

গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন। তিনি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অবসরে যান। নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকায় তিনি জমি কিনে তিনতলা বাড়ি নির্মাণ করছিলেন। তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে নির্মাণাধীন বাড়ির দ্বিতীয় তলায় থাকতেন। রোববার ময়নাতদন্ত শেষে চারজনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে রাতেই তাঁদের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

আরও পড়ুন