ধর্ষণের মামলায গ্রেপ্তার তিনজন হলেন রায়পুরার মুছাপুর ইউনিয়নের পাহাড়কান্দি এলাকার মোহাম্মদ আলী (৪০), জুয়েনা আক্তার ওরফে মায়া সরকার (৩০) ও তাঁর স্বামী খোরশেদ আলম (৩৫)। জুয়েনা-খোরশেদ দম্পতি বেলাব উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের গকুলনগর এলাকায় ভাড়া থাকেন। অপর আসামি হলেন পাহাড়কান্দি এলাকার মো. সোহরাব হোসেন (৪০)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ওই কিশোরী ভৈরবে এক বান্ধবীর বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। কর্মস্থলে ফেরার জন্য রোববার সকাল সাতটার দিকে সে ভৈরব বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি বাসে ওঠে। এ সময় পাশে বসা জুয়েনার সঙ্গে তার কথা হয়। জুয়েনা তাকে একটি ভালো কাজ দেওয়ার কথা বলে সঙ্গে করে নিয়ে আসেন। সকাল আটটার দিকে বেলাব উপজেলার গকুলনগরে ওই নারীর বাড়িতে পৌঁছায় তাঁরা। এরপর কিশোরী ওই বাড়িতেই ছিল। বিকেল চারটার দিকে বাড়িটির একটি কক্ষে অবস্থানের সময় মোহাম্মদ আলী ও মো. সোহরাব হোসেন ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। এ সময় কিশোরী চিৎকার করলেও জুয়েনা ও তাঁর স্বামী খোরশেদ এগিয়ে আসেননি। একপর্যায়ে ওই দুই ব্যক্তি তাঁকে ধর্ষণ করেন। পরে জুয়েনা ও খোরশেদ এসে কিশোরীকে বিভিন্ন কথাবার্তা বলে সান্ত্বনা দিয়ে বাড়িতেই আটকে রাখেন।

সোমবার বেলা ১১টার দিকে ওই বাড়ির সীমানায় এক নারীকে দেখতে পেয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানায় ওই কিশোরী। পরে তাঁর মাধ্যমে স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি পুলিশে খবর দিয়ে বাড়িটিতে এসে কিশোরীকে উদ্ধার করেন এবং জুয়েনা ও খোরশেদকে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে বেলাব থানা–পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ওই দম্পতিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাঁরা ঘটনার কথা স্বীকার করে ধর্ষণে জড়িতদের নাম-পরিচয় জানান। ওই রাতেই কিশোরীর বাবা বেলাব থানায় চারজনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দেন। রাতেই মোহাম্মদ আলীকে আটক করে নিয়ে আসে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে লিখিত অভিযোগটি মামলা হিসেবে রুজু হওয়ার পর দুপুরে তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ।

কিশোরীর বাবা বলেন, ‘একটা ভালো কাজের ব্যবস্থা করে দেবে বলে আমার মেয়েকে আটকে রেখে এ ঘটনা ঘটিয়েছে তারা। আমি তাদের বিচার চাই।’

বেলাব থানার ওসি তানভীর আহম্মেদ বলেন, দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এরই মধ্যে কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষাও সম্পন্ন করা হয়েছে। অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।