এক সপ্তাহ ধরে নদীতে স্রোতের তীব্রতা বেড়ে ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্প এলাকায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। গতকাল রাতে পানির অতিরিক্ত স্রোতে ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের সিসি ব্লক ধসে প্রায় ৩০ মিটার এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

যমুনা নদীর ডান তীর সংরক্ষণ এলাকায় ভাঙনের বিষয়ে পাউবোর কর্মকর্তাদের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
বেলাল হোসেন, ভান্ডারবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান

ভান্ডারবাড়ি এলাকার ভুতবাড়ি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘পাঁচবার নদীভাঙনের শিকার হয়ে ঘরবাড়ি, জমিজমা হারিয়ে ভুতবাড়ির বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পাশে আশ্রয় নিয়েছি। কদিন ধরে চলছে নদী থেকে বালু উত্তোলন। সেই বালু পরিবহনকারী নৌকার ধাক্কায় পানির স্রোতের তীব্রতা আরও বেড়ে গেছে। যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে, তাতে বাড়িঘর আবার হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকতে হবে আমাদের।’

যমুনা নদীর বাঁধে আশ্রয় নেওয়া হালিমা বেগম বলেন, কয়েকবার নদীভাঙনের শিকার হয়ে তাঁরা পরিবার নিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ পুরোনো বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তাঁর বাড়ির সামনে নদীর ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্পে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে তাঁদের ঘরবাড়ি ভাঙনের কবলে পড়ে যমুনা নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।

ভান্ডারবাড়ি গ্রামের জাহিদ হাসান বলেন, বরইতলী ও ভান্ডারবাড়ি গ্রামে ৩০-৪০ মিটার অংশ ভেঙে যমুনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়া তালুকদার বাড়ির সামনে আরও দুটি স্থানে সিসি ব্লক দেবে প্রায় ২০ মিটার এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে মেরামত না করা হলে ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বলেন, যমুনা নদীর ডান তীর সংরক্ষণ এলাকায় ভাঙনের বিষয়ে পাউবোর কর্মকর্তাদের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বগুড়া পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী নিবারণ চক্রবর্তী বলেন, যমুনা নদীর ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্প এলাকার ভাঙনের স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।