লক্ষ্মীপুরের ৪টি আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী, ভোটের ব্যবধান কত

লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের বিজয়ী শাহাদাত হোসেন সেলিম, লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসনের আবুল খায়ের ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনের এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান

লক্ষ্মীপুর বিএনপি-প্রভাবিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। দলটি ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে জেলার চারটি আসনেই জিতেছিল। ২০১৪ সালে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো নির্বাচন বর্জন করে। একতরফা ওই নির্বাচনে সব আসন আওয়ামী লীগের দখলে চলে যায়। তবে আবারও জেলার সব কটি আসন জিতেছে বিএনপি।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে জেলার চারটি আসনের বেসরকারি ফল ঘোষণা করা হয়। এই ফল অনুযায়ী, চারটিতেই বিএনপির প্রার্থীরা জিতেছেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাছান ফল ঘোষণা করেন।

ঘোষিত ফল অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে শাহাদাত হোসেন সেলিম, লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসনে আবুল খায়ের ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ও লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনে এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁরা সবাই ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছেন।

লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী শাহাদাত হোসেন সেলিম পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৮১১ ভোট। এ আসনে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাহবুব আলম পেয়েছেন ৫৯ হাজার ২৬৫ ভোট। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ভাই।

লক্ষ্মীপুর-২ আসনে আবুল খায়ের ভূঁইয়া ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩২১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এস ইউ এম রুহুল আমিন ভূঁইয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৯৮ ভোট। আবুল খায়ের ভূঁইয়া জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি। তিনি এর আগেও তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৭৬৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী রেজাউল করিম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৭৯ ভোট। এ্যানি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক। তিনি এর আগে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। আর রেজাউল ঢাকা মহানগর (উত্তর) জামায়াতের সেক্রেটারি।

লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান পেয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ২৬ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী আশরাফুর রহমান হাফিজ উল্যা পেয়েছেন ৭০ হাজার ৭৬৫ ভোট।

জানতে চাইলে রাতে লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘লক্ষ্মীপুরের মানুষ বারবার প্রমাণ করেছে, তাঁরা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেই রয়েছে। বিভ্রান্তি ছড়িয়ে ভোটের সমীকরণ বদলানো যায় না, জনগণ ধানের শীষেই আস্থা রেখেছেন।’