শহরের ভাঙারি পট্টিতে মূলত মুদ্রণের দোকান বেশি। সেখানে এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে পিভিসি-ডিজিটাল ব্যানারের কাজ শুরু করে আইবি ডিজিটাল সাইন নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যানার ডিজাইনার ইমরান বিশ্বাস বলেন, ‘ফেব্রুয়ারি মাসে ডিজিটাল ব্যানারের কাজ হাতে নেওয়ার পর কোনোরকম কাজ করে টিকেছিলাম। গত ১০ দিনে অনেক কাজ পেয়েছি। এখনো কাজ আসছে। আগামীকালও (শুক্রবার) কাজের চাপ থাকবে।’

ছাপার কাজে নিয়োজিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে কথা বলে জানা যায়, ১৮ থেকে ২২ টাকা ফুট হিসেবে ডিজিটাল ব্যানার প্রিন্ট হচ্ছে। কাপড়ের ব্যানার লিখতে সময় লাগে। এ ছাড়া নানা সীমাবদ্ধতায় এখন জনপ্রিয় অবস্থানে আছে ডিজিটাল ব্যানার।

বিএনপির সমাবেশে বেশি চলছে কাঠের ফ্রেমে বাঁধানো তিন ফুট লম্বা ও দুই ফুট চওড়া এবং চার ফুট লম্বা ও আড়াই ফুট চওড়া ব্যানার। দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জাতীয় নেতাদের ছবির সঙ্গে ওয়ার্ড থেকে জেলা পর্যায়ের নেতারা বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত ব্যানার টানিয়েছেন শহরে। এসব ব্যানারে ১২ নভেম্বরের গণসমাবেশকে সফল করার জন্য সবাইকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শহরের স্বর্ণ কুটির বিপণিবিতানে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক ব্যানারের কাজ করেছে বন্ধন ডিজিটাল সাইন নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি থেকে গত ১০ দিনে প্রায় ৫ হাজার ব্যানার ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে। এর সবই বিএনপির সমাবেশ সফল করার বার্তা দিয়ে বানানো। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক ইসলামুল হক বলেন, ভালো ব্যবসা হচ্ছে। কয়েক দিন ধরে কাজের চাপ প্রচুর। যেসব ব্যানারের অর্ডার ছিল সব ডেলিভারি দেওয়া হয়ে গেছে। আবারও নতুন অর্ডার আসছে। এ চাপ ১১ নভেম্বর পর্যন্তই থাকবে।

কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসভাপতি মাহবুবুল হাসান ভূইয়ার পক্ষে করা ব্যানার নিতে এসেছেন কে এম রাব্বি। তিনি ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘গত চার থেকে পাঁচ দিন ধরে আমরা ব্যানার টানাচ্ছি। পিংকু (মাহবুবুল হাসান ভূইয়া) ভাইয়ের পক্ষে কয়ে শ ব্যানার টানানো হয়েছে। আরও শ খানেক টানাব।’

ডিজিটাল প্লাস ডিজাইন অ্যান্ড প্রিন্টিংয়ের ব্যানার প্রিন্টের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মী রাকিব মাতুব্বর বলেন, ‘গত ছয় দিনে আমরা তিন হাজারেরও বেশি ব্যানার প্রিন্ট ব্যানার করেছি। সবচেয়ে বেশি অর্ডার গেছে গতকাল। আজও হাতে প্রচুর কাজের চাপ।’