গণনার মাঝপথে স্থগিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া আইনজীবী সমিতির নির্বাচন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন সদস্যরা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরেছবি : প্রথম আলো

ব্যালট ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার অভিযোগ ওঠার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবদুল মালেক মাইকের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ স্থগিতের ঘোষণা দেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবদুল মালেক রাত সাড়ে ১০টার সময় সাংবাদিকদের বলেন, ‘একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। ব্যালটে কোনো ত্রুটি ছিল না, তবে আমাদের কাজের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ প্রয়োজন।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া আইনজীবী সমিতি সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলে। মোট ভোটার ৬৮৯ জন, যার মধ্যে ৬৫৪টি ভোট পড়ে। এরপর ভোট গণনা শুরু হয়।

কয়েকজন আইনজীবী জানান, রাত নয়টা থেকে সাড়ে নয়টা পর্যন্ত মোট ২২৫টি ভোট গণনা হয়। সিনিয়র সহসভাপতি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী সুধীর চন্দ্র ঘোষ একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ভোটারের ব্যালট ও মুড়িতে একই ক্রমিক নম্বর থাকায় গোপনীয়তা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি ভোট গ্রহণ ও নির্বাচন স্থগিতের আবেদন করেন। সভাপতি প্রার্থী আবদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মৌখিকভাবে একই আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনার নির্বাচন স্থগিত করেন।

বৃহস্পতিবার রাত পৌনে নয়টার সময় আইনজীবী সমিতির ভবনের সামনে পুলিশ মোতায়েন দেখা যায়। দ্বিতীয় তলায় আইনজীবীদের হইচই শোনা যায়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এম এম রকিব উর রাজার নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা সেখানে যান।

সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সহসভাপতি আবদুর রহমান এবং মফিজুর রহমান সভাপতি পদে প্রার্থী ছিলেন। অন্যান্য পদে বিভিন্ন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মফিজুর রহমান বলেন, কোনো সমস্যা ছিল না। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ভোট গণনার সময় নির্বাচন স্থগিত করেছেন, যা বিধিবহির্ভূত এবং সম্মানহানি করেছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবদুল মালেক বলেন, ‘সারা দিন আমরা নির্বাচন করেছি। আমরা প্রায় ২০০ ভোট গণনা করেছি। একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন বন্ধ করে দিয়েছি। তাঁরা বলেছেন, ব্যালটের ত্রুটিবিচ্যুতি ছিল না। আমাদের কাজ করার পরিবেশ থাকতে হবে। ভোট গণনার কোনো পরিবেশ ছিল না। এটা কোনো ত্রুটি নয়।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এম এম রকিব উর রাজা প্রথম আলোকে বলেন, সব ব্যালট সিলগালা করে আইনজীবীদের জিম্মায় জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের কক্ষে রাখা হয়েছে।