তারপর চলন্ত অবস্থায় কম মূল্যে হোটেল পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে পর্যটকদের নেওয়া হয় নির্দিষ্ট কিছু গেস্টহাউস ও হোটেলে। হোটেলকক্ষে পর্যটক পৌঁছে দিলে দালাল চক্র কক্ষভাড়ার বিপরীতে কমিশন পায় ২০০-৫০০ টাকা। তিনি বলেন, পর্যটক যদি নিজের অগ্রিম বুকিং করা হোটেলে যেতে চান, সে ক্ষেত্রে ২০ টাকার ভাড়া ১০০-১৫০ টাকা আদায় করা হয়।

এত টাকা দিতে না চাইলে টমটমচালক কিংবা দালাল চক্র পর্যটকদের নাজেহাল করে। এ রকম নানা অভিযোগের ভিত্তিতে ট্যুরিস্ট পুলিশ মাঠে নেমেছে। প্রথম দিনেই কলাতলীর একটি পয়েন্টে ১৯ দালালকে আটক ও ১৪টি টমটম জব্দ করা হয়েছে। অন্য দালালদের শনাক্ত করতে আটক দালালদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, লিংকরোড, ডলফিন মোড়, সুগন্ধা পয়েন্ট, সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সামনে কটেজ জোন, হলিডে মোড়, ঝাউতলা, লালদীঘির পাড়ে এ রকম ১০টির বেশি দালাল চক্রের অন্তত তিন শতাধিক সদস্য তৎপর থাকেন। তাঁরা ইজিবাইক চালিয়ে কিংবা লোকসমাগম ঘটে, এমন স্থানে ঘুরেফিরে পর্যটক সংগ্রহ করে ও প্রলোভন দেখিয়ে হোটেল-গেস্টহাউসে নিয়ে কমিশন হাতিয়ে নেন।

দালাল চক্রের মূল হোতা হিসেবে জাফর আলম (৩৮) নামের একজনের নাম বলেছে পুলিশ। জাফরের বাড়ি রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল এলাকায়। সাত বছর ধরে তিনি শহরে শতাধিক তরুণ-যুবক নিয়ে গড়ে তুলেছেন দালাল চক্র। শুক্রবারের অভিযানে জাফর আলমকে আটক করে ট্যুরিস্ট পুলিশ। আটক অন্য দালালদের বয়স ১৮ থেকে ৪৭ বছর।

পুলিশ ও পর্যটকের অভিযোগ, যাত্রী হিসেবে পর্যটকদের টমটমে তুলে মেরিন ড্রাইভের দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ইনানী এলাকার নির্জন স্থানে নিয়ে কৌশলে মালামাল ছিনতাই ও লুটপাটের ঘটনা ঘটছে অহরহ। ছিনতাইকারীদের সঙ্গে কিছু টমটমচালকের আগে থেকে যোগাযোগ থাকে।

পুলিশ সুপার রেজাউল করিম বলেন, পর্যটকের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ অটোরিকশা ও টমটমচালকদের ডেটাবেইজ তৈরি করছে। এটি তৈরি হলে সৈকত ও মেরিনড্রাইভ এলাকায় চলাচলকারী টমটম ও অটোরিকশায় ট্যুরিস্ট পুলিশের মুঠোফোন নম্বরযুক্ত স্টিকার লাগানো হবে।

চালকের পরনে থাকবে বিশেষ পোশাক। চালকের গলায় ঝোলানো থাকবে ছবিসহ পরিচয়পত্র। কোন এলাকার ভাড়া কত টাকা তা–ও টাঙানো হবে, যাতে পর্যটকেরা প্রতারিত না হন। দালাল চক্রের বিষয়ে সতর্ক করতে হোটেলমালিকদের সঙ্গেও কথা বলবে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন